default-image

ডায়মন্ড রেইন (হীরার বৃষ্টি), বিয়ার, জাদুর কাঠি, গোলাপ, কিস (চুম্বন) সবই অপার্থিব বা ভার্চ্যুয়াল। আর এসব মিলছে তরুণদের জনপ্রিয় অ্যাপস লাইকিতে। এ জন্য টাকা খরচ করতে হচ্ছে। বিভিন্ন কার্ড ও লেনদেন মাধ্যম ব্যবহার করে এতে টাকা খরচ করা যাচ্ছে। এর বিনিময়ে মিলছে পয়েন্ট। এই পয়েন্ট উপহার হিসেবে দেওয়া যাচ্ছে পছন্দের লাইকি মডেলদের।

আর এভাবেই টাকা উজাড় করছেন উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীরা। যদিও বাংলাদেশে কোনো সেবা বা পণ্য না দিয়ে এভাবে টাকা গ্রহণের সুযোগ নেই। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত ভিত্তিতে গ্রাহকদেরও সতর্ক করছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, বাংলাদেশে অনলাইনে টাকা দিয়ে পণ্য বা সেবা কেনার সুযোগ রয়েছে। সেবা হলে তা নেটফ্লিক্সের মতো বিনোদন সাইট বা কোনো গেমিং সাইট হতে পারে। তবে লাইকিতে টাকা খরচ করে মিলছে ভার্চ্যুয়াল আবেগ ও অনুভূতি, যা উপহার হিসেবে অন্যদের দেওয়া যাচ্ছে।

লাইকি অ্যাপে ৯০ টাকা খরচ করে ৪২টি ভার্চ্যুয়াল হীরার টুকরা মেলে। আর ১০ হাজার ১৫৪ টাকা খরচে মিলে ৪ হাজার ২৪০ হীরার টুকরা। এসব হীরার টুকরা ব্যবহার করে মডেলদের বিভিন্ন ধরনের উপহার দেওয়া যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো সেবা না দিয়ে এভাবে টাকা গ্রহণের সুযোগ নেই। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনুমোদিত কোনো লেনদেন মাধ্যম, কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে এসব সেবার সঙ্গে লেনদেন করতে পারবে না। এ বিষয়ে সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

লাইকি অ্যাপস তৈরি করেছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিগো টেকনোলজি। বিগো ২০১৭ সালের জুলাই মাসে এটি বাজারে ছাড়ে। বিগোর মূল প্রতিষ্ঠান চীনভিত্তিক জয়। লাইকির সক্রিয় ব্যবহারকারী প্রায় ১২ কোটি। ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ অ্যাপ ইমো ব্যবহারকারীরা সরাসরি লাইকি ব্যবহার করতে পারেন। আগে এর নাম ছিল লাইক, এখন তা লাইকি। ২০১৯ সালে লাইকির রাজস্ব আয় ছিল ৮ কোটি ডলারের বেশি।

জানা গেছে, লাইকি বাংলাদেশে কার্যালয় খুলেছে। আর টাকা গ্রহণের জন্য নিয়োগ দিয়েছে বেশ কয়েকজন এজেন্ট। যারা বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে টাকা গ্রহণ করছে।

লাইকিতে সহজে ভিডিও করা যায়, সম্পাদনা করা যায়। এ ছাড়া নানা রকম আবহ এবং অগমেন্টেড রিয়েলিটি (নতুন কোনো বাস্তবতা যুক্ত করা) যোগ করা যায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও রয়েছে এই অ্যাপে। মূলত কম বয়সী ছেলেমেয়ে ও তরুণেরা এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করে। বাংলাদেশে লাইকি বেশ জনপ্রিয়। এই অ্যাপ চালাতে ও ভিডিও দিতে খুব বেশি গতির ইন্টারনেটের প্রয়োজন হয় না। তাই এর ব্যবহার ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন