চামড়া খাতে সুদিন ফেরাতে তিনটি উদ্যোগ দরকার। প্রথমত, নেতিবাচক ভাবমূর্তি দূর করতে হবে। দ্বিতীয়ত,আর্থিক সমস্যা থেকে ট্যানারিগুলোকে বের করে আনার উদ্যোগ নেওয়া দরকার। হাজারীবাগে থাকার সময়ই ১৫৫টি ট্যানারির ৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ ছিল। প্রতিবছর সেই ঋণের ওপর সুদ বাড়ছে। হেমায়েতপুরে আসার পর সেই ঋণের কারণেই ট্যানারিমালিকেরা আর্থিকভাবে দুরবস্থার মধ্যে রয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্যানারিমালিকদের দীর্ঘ মেয়াদে স্বল্প সুদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া উচিত।

তৃতীয়ত, চামড়া শিল্পনগরীর পরিবেশদূষণ বন্ধ করতে হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উচিত, দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্তত ২০টি ট্যানারিকে আন্তর্জাতিক সংগঠন লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ পাওয়ার উপযুক্ত নিজস্ব বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) নির্মাণের অনুমতি দেওয়া। সেটি হলে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের (সিইটিপি) ওপর চাপ কমে যাবে। একই সঙ্গে চামড়া খাতের অচলাবস্থা কেটে যাবে।

সবশেষে কোরবানির চামড়ার দাম নিয়ে কয়েকটি কথা বলতে চাই। সারা বছর যে পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ হয়, তার মধ্যে ৪৫–৫৫ শতাংশ আসে কোরবানির ঈদে। কয়েক বছর ধরে একধরনের অনিশ্চয়তার কারণেই কাঁচা চামড়া কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গরুর হাটে হাসিল আদায়ের সময় ক্রেতার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে ১০ কেজি লবণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সেটি হলে কোরবানির পরপরই চামড়ায় লবণ লাগানোর বিষয়টি সহজে নিশ্চিত করা সম্ভব। আর লবণ লাগালেই এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে চামড়া নষ্ট হবে না। তখন কোরবানিদাতা কিংবা মসজিদ–মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ চামড়া বেচাকেনায় দর–কষাকষির সুযোগ পাবে। দামও বেশি পাবে।

মহিউদ্দিন আহমেদ, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএলএফইএ)

বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন