বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ২৪০ বিলিয়ন ডলারের চামড়ার বাজার আছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মান না থাকায় চামড়া রপ্তানিতে আমরা কাঙ্ক্ষিত সফলতা পাচ্ছি না। এটার পেছনে দায় সবার।

হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরিয়ে সাভারের চামড়া শিল্পনগরে নেওয়ায় কাঙ্ক্ষিত মান অর্জিত হয়নি। শিল্পনগরের কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার বা সিইটিপি আন্তর্জাতিক মানের নয়। অথচ এটা আমরা কোনোভাবেই স্বীকার করি না। সিইটিপিসহ শিল্পনগরের সাধারণ সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এটা নিশ্চিত করা গেলে ট্যানারিমালিকেরাও আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে তাদের কারখানার মান নিশ্চিত করতে বাধ্য হতেন।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে চামড়াশিল্প খাতের জন্য কোনো যোগ্য অভিভাবক নেই। দেশের চামড়াশিল্প কোনোভাবেই ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের মধ্যে পড়ে না। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি প্রতিষ্ঠানের অধীনে এ খাতের তদারকি দরকার। একই সঙ্গে সময় বেঁধে দিয়ে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনাও নিতে হবে। তাহলে বছরে ৫–১০ বিলিয়ন ডলারের চামড়া রপ্তানি করা কোনো ব্যাপারই হবে না।

সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঠিক করার আগে কম দামের জন্য ব্যবসায়ীদের দায়ী করাটা ঠিক হবে না। তারা যদি ব্যবসা করতে না পারেন, তাহলে চামড়া কিনে কী করবেন। সরকার কৃষকদের কাছ থেকে যেভাবে সরাসরি পণ্য কেনে, সেভাবে চামড়ার ক্ষেত্রেও উদ্যোগ নিতে পারে। অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেরাই সিইটিপি করতে চায়। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নীতি– সহায়তা দিতে হবে।

বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ডের ক্রেতারা এখন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার মানকে গুরুত্ব দিয়ে চামড়া ক্রয় করে। ক্রেতারা দেখতে চান যে চামড়া আসছে, সেগুলো কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হয়েছে, ওই গরুগুলো পরিবেশসম্মতভাবে বড় হয়েছে কি না, কী খেয়েছে, সেগুলোকে কী ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে ইত্যাদি বিষয়। এ জন্য পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নের দিকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।

এম আবু ইউসুফ : অধ্যাপক, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন