default-image

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দেখেছি, দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতারা সংগঠনের পক্ষ থেকে আলাদা ব্যাংক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ব্যবসায়ী সংগঠনের ব্যাংক চাওয়ার বিষয়ে আমার তিনটি পর্যবেক্ষণ আছে।

প্রথমত, বাংলাদেশে এমনিতেই প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি। তাই এ মুহূর্তে নতুন কোনো ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের জন্য আলাদা ব্যাংক দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক হবে না। বিদ্যমান ব্যাংকগুলোর মাধ্যমেই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব। দ্বিতীয়ত, এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের অনেকেই এখন ব্যাংকের পরিচালক। তাঁরা উদ্যোক্তা–পরিচালক। এখন এফবিসিসিআই নতুন ব্যাংক করলে তাঁদেরই আবার ব্যাংকের উদ্যোক্তা হতে হবে। এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আপস করতে হবে। তাঁরা নিজেরাই নিজেদের ব্যাংকের পরিচালক বানিয়ে ফেলবেন। এতে ঋণ দেওয়া, ঋণের অর্থ ফিরে পাওয়ার ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হবে। তৃতীয়ত, এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের মধ্যে যাঁরা আগে থেকেই ব্যাংকের পরিচালক, তাঁদের অনেকের ব্যাংকের অবস্থা এখন খারাপ। তাঁরা কেন তাঁদের ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ঠিক করছেন না? এখন তাঁরা যদি এফবিসিসিআইয়ের ব্যাংকের পরিচালক হন, তাহলে কীভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে? এমন অবস্থায় এখন আর নতুন করে ব্যাংকের প্রয়োজন নেই।

বিজ্ঞাপন

এখন অনেকেই বলতে পারেন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশসহ (বিজিবি) অনেক সংস্থা নিজেদের জন্য ব্যাংক পেয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এসব ব্যাংকের মালিকেরা ব্যবসায়ী নন। এসব সংস্থার সদস্যদের ব্যাংকসেবা পাওয়ার জন্য এ ব্যাংকগুলো করা হয়েছে। তাই বলা যায়, শুধু ব্যবসায়ী সংগঠনের জন্য ব্যাংক দেওয়া সুবিবেচনার কাজ হবে না।

এদিকে অনেক দিন ধরেই সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে এফবিসিসিআইয়ে নেতা নির্বাচিত হন না। সরকার–সমর্থিত ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থে নেতা হয়ে যান। সরকারও এ সুযোগ নিয়ে নিচ্ছে, এটি ভালো হচ্ছে না।

বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন