দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এ বাস্তবতায় প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের কোনো রকমের ছাড় না দেওয়ার কথা জানালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিরূপাক্ষ পাল। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) আয়োজিত ২০১৪-১৫ অর্থবছরের ষাণ্মাসিক (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতিবিষয়ক কর্মশালায় গতকাল রোববার এ কথা বলেন তিনি।
প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিরূপাক্ষ পাল বলেন, ‘ভালো কাজের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাচ্ছে, অন্যদিকে খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার লজ্জাও আমাদের নিতে হচ্ছে। হ্যাবিচুয়াল বা অভ্যাসগত ঋণখেলাপিদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’
ষাণ্মাসিক মুদ্রানীতিতে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে ব্যাংক খাতে কর্মরতদের নিয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালার শুরুতে মুদ্রানীতিতে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন তিনি। তাঁর উপস্থাপনার পরিপ্রেক্ষিতে পর্যালোচনামূলক বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ও রাষ্ট্রমালিকানাধীন একাধিক ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এ চৌধুরী। এরপর কর্মশালায় অংশ নেওয়া ব্যাংক কর্মকর্তাদের মুদ্রানীতিবিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বিরূপাক্ষ পাল।
ঘোষিত মুদ্রানীতি সম্পর্কে বিরূপাক্ষ পাল জানান, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশ ও জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য নিয়ে এ মুদ্রানীতি তৈরি করা হয়েছে। ঘোষিত মুদ্রানীতিতে অর্থ সরবরাহ বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ আর বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি রাখা হয়েছে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ। ব্যাংকঋণের সুদহার এবং আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান কমিয়ে আনাও এ মুদ্রানীতির লক্ষ্য বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মুদ্রানীতিতে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের অর্থায়নের ওপর জোর দেওয়ার কথাও জানান এ অর্থনীতিবিদ।
প্রভাবশালীরা ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করায় কি ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান কমানো সম্ভব হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে ২০০৮ সালের মহামন্দার সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে বিরূপাক্ষ পাল বলেন, অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করতে মার্কিন সরকারকে বিলিয়ন ডলার খরচ করতে হয়েছিল। অনেক সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায়, তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে তার মানে এই নয় যে বিশেষ একটা শ্রেণিকে সুবিধা দিতে হবে।
দেশের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রত্যাশিত হারে না বাড়ায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন বিরূপাক্ষ পাল। এ জন্য দেশের বাজারকে আরও উন্মুক্ত করার পক্ষে মতামত দেন তিনি। তবে তাঁর এ মতামতের সঙ্গে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করে ইব্রাহিম খালেদ বলেন, দেশেই এখন অনেক বিনিয়োগকারী আছেন, প্রথমে তাঁদের বিনিয়োগের সুযোগ করে দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন