প্রথম আলো: কতগুলো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?

ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ: সিলেট শহর ও আশপাশের এলাকা মিলিয়ে ১০ হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সুনামগঞ্জে পাঁচ-সাত হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান আরও ভয়াবহ অবস্থায়। বানের পানিতে অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেসে গেছে। প্রত্যন্ত এলাকার হিসাব এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এটা নিশ্চিত, হাতে গোনা কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু পানির নিচে। আমি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছি; তাঁরা বলেছেন, এবার পানি এত দ্রুত বেড়েছে যে দোকানের মালামাল রক্ষা করা তো দূরের কথা, প্রাণে বেঁচে আছেন, সেটাই অনেক। এবারের বন্যার ভয়াবহতা চোখে না দেখলে বলে বোঝানো সম্ভব নয়।

প্রথম আলো: এই ক্ষতি পোষানো তো সম্ভব নয়, নতুন করে শুরু কীভাবে হবে?

ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ: পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে আগে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করতে হবে। তারপর সরকারের সঙ্গে বসব। আপাতত বড় ব্যবসায়ীদের জন্য কিছু না করা গেলেও ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনার বিকল্প নেই। সরকারের কাছে আবেদন, প্রান্তিক এসব ব্যবসায়ীর জীবন ও জীবিকার ব্যবস্থা করা হোক, অনেকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নতুন করে নির্মাণ করে দেওয়া হোক। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে হলে সরকারি-বেসরকারি সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ছাড়া এখানকার অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে পর্যটন স্পটগুলো দ্রুত সংস্কার করতে হবে। পর্যটকদের কাছে অনুরোধ, সিলেটে ঘুরতে আসুন; তাহলে এখানকার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত হবে।

প্রথম আলো: এখনকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় চেম্বার কী উদ্যোগ নিয়েছে, দোকানপাট খুলছে কি?

ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ: এই পরিস্থিতিতে আমরা শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, সবাইকে সহযোগিতা করছি। যেখানে পারছি, সেখানে বলে দিচ্ছি, এই সংকট সবার। ব্যবসায়ী বলে কথা না, আমরা সবাইকে সাধ্যমতো সাহায্য করছি। দোকানপাট এখন কিছু কিছু খোলা হচ্ছে। অন্যরা পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলবেন। খাদ্যদ্রব্যের দোকানগুলো চালু রাখার সব চেষ্টা আছে। সবাই সহনশীল। তবে কিছু অভিযোগও এসেছে। এর মধ্য ব্যবসায়ীদের জন্য আতঙ্ক হয়ে এসেছে ডাকাতির ভয়। ব্যবসায়ীদের মালামাল রক্ষায় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরাও সব দিকে খেয়াল রাখছি। বন্যার ভয়াবহতা থেকে সবাই দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে, সেই প্রত্যাশা করি।

বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন