default-image

আসিয়ানের ১০টি দেশ ও চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে স্বাক্ষরিত আরসিইপি চুক্তিকে বড় ঘটনা বলেই মনে করি। এতে বোঝা যাচ্ছে, চীনের নেতৃত্ব এখন বাস্তবতা।

অন্যদিকে এই চুক্তিতে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। সম্প্রতি চীন বাংলাদেশকে ৮ হাজার ২৫৬টি পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক ও কোটামুক্ত বাণিজ্য–সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের পক্ষে সেই সুবিধা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। এখন এসব পণ্য রপ্তানিতে চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে প্রতিযোগিতা করতে হবে। স্বাভাবিকভাবেই চুক্তিভুক্ত দেশগুলো এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। চীনের বাজারে ঢুকতে ভিয়েতনাম, লাওসের মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে। আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকার টিপিপি পুনরুজ্জীবিত করলে আরেক বিপদ। টিপিপিতে ভিয়েতনাম আছে। তখন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে। সামনে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাবে। তখন তাকে আরও প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে।

কিন্তু আমাদের বাস্তবতা হচ্ছে এখন দ্বিপক্ষীয় বা বহুপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশ করতে পারেনি। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে, অগ্রগতি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ অন্তত আরসিইপিতে পর্যবেক্ষক হতে পারে কি না, সেই চেষ্টা করা যেতে পারে। সেই সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিসংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

এ চুক্তির আওতায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সেবা—সবই আছে। ফলে শুধু বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নয়, বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এটি হলো এমন এক পরিস্থিতিতে, যখন বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগ পেতে জোর চেষ্টা করছে। ফলে বাংলাদেশ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলা যায়।

এ চুক্তির ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেখানে টিপিপি থেকে বেরিয়ে গেল, সেখানে চীন নতুন চুক্তি করে ফেলল, নিঃসন্দেহে এটি তার সফলতা। এ বাস্তবতা কেউ অস্বীকার করতে পারে না। নিকট ভবিষ্যতে তারাই পৃথিবীর শীর্ষ অর্থনীতি হবে—এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই সবাইকে নীতি প্রণয়ন করতে হবে।

এ চুক্তিতে ভারত নেই। অর্থনৈতিক কারণে যেমন, তার এই না থাকার পেছনে রাজনৈতিক কারণও আছে। সম্প্রতি চীনের সঙ্গে তার বৈরিতা চূড়ান্ত পর্যায়ে উঠেছে। কিন্তু তাকেও চীনের এ উত্থানের বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। দক্ষিণ এশিয়াকেন্দ্রিক যেসব জোট গঠিত হয়েছে, সেগুলোর বিশেষ কার্যকারিতা নেই। বলা যায়, কোনোটিই সফল হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ভারত জোটগুলো সচল করতে উদ্যোগী হতে পারে।
কথা হচ্ছে চীনের এ উত্থান নতুন কিছু নয়। কিন্তু তা জেনেও ভারত এত দিন সময়ের সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। সুযোগ হারিয়েছে তারা। এখন তাকেও এ বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। তবে ভারতের সদিচ্ছা নেই তা বলব না, অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নানা হিসাব-নিকাশের কারণে তার পক্ষে অনেক সময় সুনির্দিষ্ট অবস্থান নেওয়া সম্ভব হয় না।
চীন ও ভারত—দুই দেশকেই বাংলাদেশের দরকার। এ পরিস্থিতিতে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0