default-image

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) অন্যতম কাজ অ্যাডভোকেসি করা। আমি মনে করি, সেই কাজটি যথাযথভাবে করা সম্ভব হলে ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। দুই বছর পরপর এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্ব বদল হয়। একেকজনের নেতৃত্বের ধরন একেক রকম। তাই যখন যিনি নেতৃত্বে এসেছেন, তিনি তাঁর মতো করে সংগঠনটিকে শক্তিশালী ও ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে কাজ করেছেন। বাণিজ্য সংগঠনসংক্রান্ত আইনের কোথাও বলা নেই, কোনো বাণিজ্য সংগঠন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবে না। তবে আমি মনে করি, বাণিজ্য সংগঠনের কোনো বাণিজ্যিক কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না হওয়াই ভালো।

পুরো বিশ্ব এখন করোনায় বিধ্বস্ত। করোনায় জীবনের পাশাপাশি বড় আঘাত লেগেছে জীবিকার। মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানা। করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতি পোষাতে সরকার এরই মধ্যে যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, সেখানে এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা বা এসএমই খাতকে প্রণোদনার আওতায় আনতে শুরু থেকে সক্রিয় ছিলেন সংগঠনটির নেতারা।

বিজ্ঞাপন

আমি মনে করি, এটিই একটি বাণিজ্য সংগঠনের যথাযথ কাজ। আমাদের দেশে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ঋণ বা প্রণোদনা প্রাপ্তিতে সব সময় পিছিয়ে থাকে। তারা যাতে টিকে থাকতে পারে, শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআই তাদের সহায়তায় পাশে থাকার চেষ্টা করছে, এটা বেশ ভালো দিক।

করোনা-পরবর্তী ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নতুন নতুন অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে। শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআইয়ের উচিত সেসব চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করা যায় সেদিকে নজর দেওয়া। এফবিসিসিআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির অনেক সুযোগ রয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক একজন সভাপতি হিসেবে আমার প্রত্যাশা, এফবিসিসিআই শুধু দেশের মধ্যে নয়, এ অঞ্চলের শক্তিশালী একটি চেম্বারে পরিণত হোক। যে সংগঠন তার সদস্য তথা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। ভবিষ্যতে যারা এ সংগঠনের নেতৃত্বে আসবে, তারা সংগঠনটিকে একটি আরও শক্তিশালী এবং ব্যবসায়ীবান্ধব করতে জোরালো ভূমিকা রাখবে—এটাই আমার প্রত্যাশা।

বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন