বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান আয়োজিত (বিআইডিএস) আবদুল গফুর স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস কার্যালয়ে আয়োজিত আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ‘বাংলা অঞ্চলে মার্ক্স অধ্যয়ন: সমালোচনার দৃষ্টিতে’। স্মারক বক্তৃতা দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক বিনায়ক সেন।

বক্তৃতায় বাংলা ভাষা ও বাংলা অঞ্চলে মার্ক্সবাদ চর্চার দীর্ঘ ঐতিহ্যের বর্ণনা দেন আনু মুহাম্মদ। বাংলা ভাষায় প্রথম কার্ল মার্ক্সকে নিয়ে লেখা হয় ১৯২৫ সালে লাঙল পত্রিকায়। এরপর সময় সময় অনেক লেখা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ নীহার সরকার ছোটদের অর্থনীতি নামে কার্ল মার্ক্সের চিন্তার ক্ষুদ্র সংস্করণ বের করেন। ২০০১ সালে ঢাকায় এই বইয়ের ৩২তম মুদ্রণ হয়েছে। এই বই বাংলা অঞ্চলে মার্ক্সবাদী রাজনীতির প্রধান পুস্তিকা হয়ে ওঠে।

আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, কার্ল মার্ক্স যেন বারবার ফিরে আসছেন। এখনো তাঁকে নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। বিষয়টি হলো, সমকালীন বাস্তবতা বোঝার জন্য মার্ক্সবাদী বিশ্লেষণ পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর।

কার্ল মার্ক্সের সঙ্গে মার্ক্সবাদী বা বিদ্যায়তনিক পরিমণ্ডলের মানুষের সম্পর্ক যত না জ্ঞানগত, তার চেয়ে বেশি আবেগীয় বলে মন্তব্য করেন বিনায়ক সেন। সত্যজিৎ রায়ের নায়ক ছবিতে উত্তমকুমার বলেন, মার্ক্স আর ফ্রয়েড ছাড়া তো বাঙালির চলে না। ব্যাপারটা হলো অবিভক্ত বাংলা ও পরবর্তীকালের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে সাম্যবাদের চর্চা গভীরতা পেয়েছিল। কার্ল মার্ক্স মানুষের দৈনন্দিন কল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন।

অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। আনু মুহাম্মদের বক্তৃতার পর তিনি বিআইডিএসকে আবদুল গফুর স্মারক বক্তৃতা আয়োজন করার জন্য ধন্যবাদ জানান। ভবিষ্যতে বিআইডিএস এ ধরনের আয়োজন করবে বলে প্রত্যাশা করেন।

বক্তৃতার ওপর আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম এম আকাশ ও মাহবুব উল্লাহ্, সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ও মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিআইডিএসের গবেষকেরা।

বাংলা ভাষায় ও বাংলা অঞ্চলে মার্ক্সবাদের চর্চা নিয়ে আনু মুহাম্মদের এ বক্তৃতা বিশদভাবে বই আকারে প্রকাশ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বলেন, সেই বই আকর গ্রন্থ হয়ে উঠবে। এখন সরাসরি অসমতা নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে। জানা যায়, অল্প কিছু মানুষের হাতে বেশির ভাগ সম্পদ কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে। এ কথা সবাই বলছে। ফলে মার্ক্সের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক এখন কেউ নয়।

কাজী নজরুল ইসলাম কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে ছিলেন। তাঁর একটি কবিতার লাইন এ রকম: ক্ষুধাতুর শিশু চায় না স্বরাজ। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ্ বলেন, ঔপনিবেশিক বাস্তবতায় কেউ স্বরাজ বা স্বাধীনতা চাইবে না, এটা কেমন কথা। ঔপনিবেশিক সমাজে মানুষের সঙ্গে উপনিবেশের দ্বন্দ্বই প্রধান। অর্থাৎ স্বাধীনতার দাবিই মুখ্য। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি জন্মলগ্ন থেকেই এ ভ্রান্তি নিয়ে বেড়ে উঠেছে।

দেশে মার্ক্সবাদের যে চর্চা হয়েছে, তা মূলত মার্ক্সকেন্দ্রিক বিতর্ক নিয়ে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এম এম আকাশ। কিন্তু মার্ক্সের নিজের রচনাভান্ডার অনেক বড়। মার্ক্স নিজে লিখেছেন জার্মান ভাষায়। সেই ভাষায় পাঠ তো দূরের কথা, ইংরেজি ভাষায়ও দেশের মার্ক্সবাদীরা মার্ক্স চর্চা করেন না। মাতৃভাষায় সেই চর্চার অবস্থা আরও খারাপ।

অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন