বিবিএসের অবহেলায় টাকা কমল 'যত্ন' প্রকল্পে

বিজ্ঞাপন
default-image

প্রকল্পের খরচ কমলে খুশি হওয়ার কথা। টাকা সাশ্রয় হলে কে না খুশি হয়। দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ‘যত্ন’ শীর্ষক প্রকল্পের খরচ কমানো হয়েছে ৪৬১ কোটি টাকা। কিন্তু এই খবর খুশি হওয়ার মতো নয়। কিছুদিন আগে বিশ্বব্যাংক অর্থ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সরকার ওই প্রকল্পের খরচ কমাতে বাধ্য হয়েছে।

দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করলে নগদ সহায়তা দেওয়ার জন্য ‘ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম দ্য পুওরেস্ট বা যত্ন’ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় চারবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে গরিব গর্ভবতী মাকে প্রতিবার ১ হাজার টাকা দেওয়া; বিভিন্ন বয়সী শিশুদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলে প্রতিবার ৭০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। ২০১৫ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে খরচ ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা। এতে ১৮ কোটি টাকা সরকার দিচ্ছে। বাকিটা বিশ্বব্যাংকের দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাংক এখন ওই প্রকল্পের ৫ কোটি ডলার বা ৪৬১ কোটি টাকা সরিয়ে নিয়েছে। ওই টাকা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কল্যাণে নেওয়া প্রকল্পে খরচ করা হবে। কারণ, সরকার দরিদ্র নারীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্যভান্ডার তৈরি করতে পারেনি। এই প্রকল্পে ছয় লাখ সুবিধাভোগী চিহ্নিত করার কথা ছিল। কিন্তু চিহ্নিত হয়েছে মাত্র সাড়ে তিন লাখ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেইস (এনএইচডি) প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র নারীদের তথ্যভান্ডার তৈরি করার কথা ছিল। বিবিএস ২০১৩ সালে প্রকল্পটি নিয়েছিল, ২০১৭ সালে শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু প্রকল্পটি সময়মতো শেষ করতে পারেনি বিবিএস। এ কারণে বিশ্বব্যাংক পাঁচ কোটি ডলার প্রত্যাহার করে নেয় প্রকল্পটি থেকে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) গতকাল মঙ্গলবারের সভায় যত্ন প্রকল্পটির খরচ কমিয়ে সংশোধন করা হয়। এখন প্রকল্পের খরচ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা। এখন বিশ্বব্যাংক দেবে ১ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২২ সালের জুন মাসে। প্রকল্পটি সম্পর্কে গতকাল পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক মাঝপথে পাঁচ কোটি ডলার রোহিঙ্গা প্রকল্পে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া বিবিএস সুবিধাভোগী চিহ্নিত করার জন্য তথ্যভান্ডার তৈরি করতে পারেনি। এখন বিবিএস যাতে দ্রুত তাদের কাজ শেষ করতে পারে, তা নিয়ে বসব।’

এ ছাড়া গতকালের একনেক সভায় আরেকটি প্রকল্পে খরচ ১২৫ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। প্রকল্পটি হলো ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’। এই প্রকল্পে কিছু খাতে খরচ কমানো হয়েছে। করোনার কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় প্রকল্পটির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়। সংশোধনের পর প্রকল্পটিতে খরচ ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। গত জুন মাসে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন তা শেষ হবে আগামী বছরের জুন মাসে। ২০০৯ সালে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। এ নিয়ে চারবার প্রকল্পের মেয়াদ ও খরচ সংশোধন করা হলো। আগে প্রকল্পটির নাম ছিল ‘একটি বাড়ি, একটি খামার’। সংশোধনীতে নামও পরিবর্তন করে ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’ করা হয়েছে।

প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বিলম্ব হওয়া সম্পর্কে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রকল্পে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা কাজ করে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকও হয়েছে। অনেক সংস্থা একসঙ্গে কাজ করায় সমন্বয়ের কিছুটা অভাব আছে। অনেক সন্ন্যাসী একত্র হওয়ায় প্রকল্পের কাজ দেরি হয়েছে।

গতকালের একনেক সভায় সব মিলিয়ে সাতটি প্রকল্প পাস হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি নতুন এবং দুটি পুরোনো প্রকল্প। পুরোনো প্রকল্পে খরচ বাড়েনি, বরং কমেছে। নতুন প্রকল্পগুলোতে খরচের পরিমাণ ৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এই একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে অনলাইনে সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন