করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। নানা ধরনের সংকটে বিপর্যস্ত ব্যবসা খাত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে কী করা যেতে পারে, এ নিয়ে সম্প্রতি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন হবিগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. মোতাচ্ছিরুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুমনকুমার দাশ

বিজ্ঞাপন
default-image

করোনাভাইরাসের কারণে দেওয়া লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা এসেছিল। লকডাউনের পর দোকানপাট চালু হয়েছে। এখন হবিগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্যের কী অবস্থা?

করোনার কারণে সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নেমেছিল। অনেক ব্যবসায়ী জমানো টাকা দিয়ে সংসারের ব্যয়সহ যাবতীয় খরচ মিটিয়েছেন। প্রায় সব ব্যবসায়ীর হাতই এখন অর্থশূন্য। এই অবস্থায় সব কটি ব্যবসায়িক খাত একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অনেকে নতুনভাবে পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তবে হবিগঞ্জে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন পোশাক ও কাপড়ের ব্যবসায়ীরা। পোশাক ও কাপড় দীর্ঘদিন ধরে দোকানের ভেতরে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে। তাই অনেক পোশাক ফেলে দিতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। একে তো বেচাকেনা ছিল না, এর মধ্যে কাপড় ফেলে দেওয়ায় পুঁজি নষ্ট হয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, লকডাউনের পর পুনরায় দোকানপাট চালু হওয়ায় এখন ধীরে ধীরে ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল হচ্ছে। বেচাকেনা ক্রমে বাড়ছে। ফলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন। এত দিন ধরে সব ধরনের ব্যবসায় একটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। সেটা কেটেছে, এটাই এখন বড় কথা।

এখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু হলেও অনেকেই লোকসান কাটাতে সীমিত কর্মী নিয়ে কাজ করছে। এই অবস্থায় বেকার কর্মীদের পরিবারগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, যেহেতু ব্যবসা-বাণিজ্য ধীরে ধীরে আবার পুরোনো রূপে ফিরে আসছে, তাই যেন ছাঁটাই করা কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
মো. মোতাচ্ছিরুল ইসলাম

অনেক প্রতিষ্ঠান, বিশেষত হোটেল-রেস্তোরাঁয় বিপুলসংখ্যক কর্মী ছাঁটাই হয়েছেন। কর্মসংস্থান হারিয়ে অনেকেই এখন দিশেহারা। এ নিয়ে কী ভাবছেন?

করোনাভাইরাসের পরপরই কয়েকটি খাত ছাড়া ছোট-বড় সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও স্বাভাবিকভাবে কাজ হারান। সেই সময়টাতে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পরও কর্মীদের মোটামুটি কমবেশি বেতন দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান বেতন দেয়নি। যে কারণে অনেক কর্মীকেই মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে। এখন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালু হলেও অনেকেই লোকসান কাটাতে সীমিত কর্মী নিয়ে কাজ করছে। এই অবস্থায় বেকার কর্মীদের পরিবারগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, যেহেতু ব্যবসা-বাণিজ্য ধীরে ধীরে আবার পুরোনো রূপে ফিরে আসছে, তাই যেন ছাঁটাই করা কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসায়িক যে ক্ষতির মুখোমুখি হতে হলো ব্যবসায়ীদের, তা থেকে কীভাবে উত্তরণ ঘটতে পারে?

যে ক্ষতি ইতিমধ্যে হয়ে গেছে, তা থেকে উত্তরণের কোনো সুযোগ নেই। বড়, মাঝারি, ছোট—সব পর্যায়ের ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। স্বাভাবিক জায়গায় ফিরে যেতে আমাদের আরও সময় লাগবে। কারণ, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। সারা বিশ্বের অর্থনীতিই করোনাভাইরাসের প্রভাবে টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। আমরাও এর বাইরে নই। ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব পড়েছে। তবে যত দ্রুততার সঙ্গে এটা কাটানো যায়, ততই আমাদের জন্য মঙ্গল। স্থবিরতা কাটাতে ব্যবসায় নতুনভাবে বিনিয়োগের জন্য টাকা দরকার। সরকার এরই মধ্যে ব্যবসায়ীদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। অনেক ব্যবসায়ী এর আওতায় ব্যাংক থেকে ঋণও নিচ্ছেন। এখন আশাই হচ্ছে মূল ভরসা। সামনে শুভদিন নিশ্চয়ই ফিরবে, এটাই প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীরা সরকারি সুযোগ-সুবিধা কেমন পাচ্ছেন?

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী হবিগঞ্জের ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের ঋণ দিচ্ছে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের চেম্বারের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নিতে হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছে প্রত্যয়নপত্র চাইলে আমরা তা দিচ্ছি। যাঁরা চেম্বারের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে ব্যাংকে আবেদন করছেন, তাঁরা ঋণ পাচ্ছেন। গত দুই মাসে ব্যাংকঋণ পেতে হবিগঞ্জের শতাধিক বড় ব্যবসায়ী প্রত্যয়নপত্র নিয়েছেন। তবে ব্যাংকঋণ দেওয়ার এ প্রক্রিয়া যদি করোনাকালে অব্যাহত রাখা যায়, তাহলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন। এতে করোনা পরিস্থিতিতে যে লোকসান হয়েছিল, সেটা হয়তো ব্যবসায়ীদের পক্ষে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। আর ব্যবসায়ীরা যদি পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে পারেন, তাহলে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বলে রাখা ভালো, এ সময়ে উদ্যোক্তা পর্যায়েও অনেক ব্যবসায়ী প্রণোদনা পাচ্ছেন।

হবিগঞ্জে এখন অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কারখানা গড়ে উঠছে। বিশেষত জেলার মাধবপুর উপজেলায় গত কয়েক বছরে অসংখ্য বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরু করেছে। করোনা পরিস্থিতিতে হবিগঞ্জে শিল্পায়নে কী ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে?

শুধু হবিগঞ্জে নয়, সারা বিশ্বেই ব্যবসা খাত বিপর্যস্ত। গত কয়েক বছরে হবিগঞ্জ শিল্পায়নের দিক দিয়ে বৃহত্তর সিলেটের অপর তিন জেলার চেয়ে বহুগুণে এগিয়ে গিয়েছিল। করোনা পরিস্থিতিতে সেটা একটু থমকে গেছে। তবে পুনরায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। অনেকেই আবার তাঁদের কারখানা চালু করতে উদ্যোগী হয়েছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0