default-image

মুঠোফোন অপারেটর রবি আজিয়াটার প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও অনুমোদন শেয়ারবাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। কারণ, আমাদের বাজারে ভালো শেয়ারের খুবই অভাব। এ অবস্থায় রবি বাজারে এলে সেই ঘাটতি কিছুটা হলেও দূর হবে। ২০০৯ সালে গ্রামীণফোন তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে বহুজাতিক ও করপোরেট সুশাসনে উন্নত মানের কোনো কোম্পানি আর বাজারে আসেনি। তাই আমি মনে করি, রবি তালিকাভুক্ত হলে সেদিক থেকেও বাজার উপকৃত হবে।

মূলধনের দিক থেকে রবি সবচেয়ে বড় কোম্পানি। বলা হচ্ছে, এখন পর্যন্ত এটিই শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় আইপিও। এ ধরনের বড় কোম্পানি বাজারে দেশি-বিদেশি নতুন অনেক বিনিয়োগকারী নিয়ে আসে। গ্রামীণফোনের বেলায় আমরা সেটি দেখেছি।

এ ছাড়া বড় মূলধনি কোম্পানি হওয়ায় রবি শেয়ারবাজারে আসার পর বাজার মূলধনও অনেক বেড়ে যাবে। বর্তমানে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির তুলনায় শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন খুবই কম। এ ক্ষেত্রে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। রবি বাজারে যুক্ত হলে জিডিপির তুলনায় শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। তা ছাড়া ভালো মানের কোম্পানি শেয়ারবাজারে যত বেশি থাকবে, দেশ-বিদেশে বাজারের ভাবমূর্তিও তত বাড়বে।

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের শেষে মাত্র ৪ পয়সা শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস নিয়ে শেয়ারবাজারে আসছে রবি। এতে বিনিয়োগকারীদের কেউ কেউ হতাশ হতে পারেন। কিন্তু মনে করি, ভালো মানের কোম্পানির ক্ষেত্রে এক বছরের ইপিএস খারাপ হলে তাতে বিনিয়োগকারীদের হতাশ হওয়ার খুব বেশি কারণ নেই। মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানিগুলোর ওপর করপোরেটসহ অন্যান্য করহার অনেক বেশি। এ কারণে কোম্পানিগুলো ভালো ব্যবসা করার পরও ভালো মুনাফা করতে পারে না। আমি মনে করি, রবি যেহেতু শেয়ারবাজারে আসছে, তাই কোম্পানিটিকে কিছুটা কর ছাড় দেওয়া দরকার।

আমার মনে আছে, গ্রামীণফোন যখন শেয়ারবাজারে আসে, তখন কোম্পানিটি ১০ শতাংশ কর ছাড়ের সুবিধা পেয়েছিল। এখন রবি আজিয়াটাকেও সেই সুবিধা দেওয়া দরকার। কর ছাড়ের সুবিধা না পেলে ভালো কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসতে উৎসাহিত হবে না।

মন্তব্য পড়ুন 0