default-image

গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ারধারী নয়জন পরিচালক ব্যাংকের আগামীতে অনুষ্ঠেয় পর্ষদ সভায় থাকতে পারবেন কি পারবেন না, তা নিয়ে দুই রকমের কথা বললেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
সচিবালয়ে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারের (বিয়াক) সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় এমন কথা বলেন।
এ সময় সরকারের নিয়োগ করা চারজন পরিচালকের বাইরের নয়জন পরিচালক পর্ষদ বৈঠকে যোগ দিতে পারবেন কি না, জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী প্রথমে বলেন, ‘না, পারবেন না। গ্রামীণ ব্যাংকের আগের পর্ষদ এখন অকার্যকর।’
গতকাল সোমবার প্রথম আলোয় গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এস এম মহিউদ্দিন বলেছেন, আগামী পর্ষদ বৈঠকে তাঁরা যোগ দিতে পারবেন। এ বিষয়টি তুলে ধরলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ। তা-ও তো ঠিক। তাঁর তো প্রতিষ্ঠানটি চালাতে হবে।’
এরপর কিছুটা খেপে গিয়ে মুহিত বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক এখন ভয়াবহ পরিস্থিতির (হরিবল সিচুয়েশন) মধ্যে রয়েছে। এ জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ।’
ড. ইউনূস ব্যাংকটিকে নিজের মতো চালিয়েছেন সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনিই সব বিধি তৈরি করেছেন—যা সবার জন্য প্রযোজ্য থাকলেও তাঁর জন্য ছিল না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের আগেই বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু বিষয় চিহ্নিত করেছিল। সরকারি চাকরির বয়স তাঁর অনেক আগেই পার হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তিনি মানেননি। তাঁকে সম্মানজনকভাবে পদ ছেড়ে দিতে বলেছিলাম। তিনি বললেন যে তিনি কেন যাবেন? সরকার পদক্ষেপ নেওয়ার পর অবশ্য তিনি আদালতে গেলেন।
গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হকও তো পদত্যাগ করেছেন—এমন প্রসঙ্গে মুহিত বলেন, ‘হ্যাঁ, করেছেন। কিন্তু আমি তাঁকে সরাইনি। এ পদের জন্য যাঁকেই বলি, তিনিই বলেন যে এখানে এসে কী করব। নির্বাহী পর্ষদ নেই, এটা নেই, ওটা নেই।’
গ্রামীণ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যক্তিকে আলাদা থাকা দরকার উল্লেখ করে মুহিত বলেন, দরিদ্রের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই তা দরকার। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূস এটা মানেন না।
গ্রামীণ ব্যাংকের ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক বর্তমানে সরকার। বাকি ৭৫ শতাংশের মালিক গ্রামীণ ব্যাংকের সাধারণ সদস্যরা।
গ্রামীণ ব্যাংকের ১২ সদস্যের পর্ষদের পরিচালক নির্বাচনের জন্য সরকার গত বছরের জুলাইয়ে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্বাচন অনুষ্ঠানটি করে দেওয়ার দায়িত্ব দিলেও বাংলাদেশ ব্যাংক রাজি হয়নি। পরে বিধি সংশোধন করে বলা হয়, অবসরপ্রাপ্ত একজন জেলা জজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার হবেন। কিন্তু চেষ্টা করেও কোনো জেলা জজকে সরকার পাচ্ছে না বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন