default-image

মাধ্যমিক শিক্ষার মান নিয়ে সন্তুষ্ট নয় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী। তারা বলেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে যতটুকু প্রত্যাশা থাকে, তার সঙ্গে বাস্তবতার বিস্তর ফারাক। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বিশাল ঘাটতি নিয়েই তাদের ক্লাস করতে হয়। ফলে অনেকটা নিরুপায় হয়ে তাদের ছুটতে হচ্ছে কোচিং সেন্টার ও গৃহশিক্ষকের কাছে।

পটুয়াখালীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় এমন চিত্র উঠে এসেছে। অবশ্য বাকি ৬০ শতাংশ মাধ্যমিক শিক্ষার মান নিয়ে নিজেদের সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে।

গবেষণাটি করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন উর রশীদ। গবেষণার জন্য তিনি বেছে নেন বরিশাল বিভাগের তিনটি জেলা বরিশাল, ঝালকাঠি ও ভোলা। এই তিন জেলা থেকে মোট ছয়টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল বাছাই করা হয়। যার মধ্যে তিনটি ছেলেদের, বাকি তিনটি মেয়েদের স্কুল। মোট ৬০১ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে গবেষণাটি করা হয়। এর মধ্যে শিক্ষার্থী ছিল ৩১৯ জন। বাকি ২৮২ জন অভিভাবক। ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরিপক্বতা হয়নি বলে তাদের অভিভাবকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি ওই দুই মাস মাঠপর্যায় থেকে তথ্য নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণাটি করতে গিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মোট ২২টি প্রশ্ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের গড় প্রত্যাশার স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে ৪.৪। সেখানে শিক্ষার্থীরা গড় সেবা পাচ্ছে ৩.১০। সে ক্ষেত্রে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ১.৩। শিক্ষার মান নিয়ে অসন্তুষ্ট হওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলেছে, স্কুলে পর্যাপ্ত ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগার সুবিধা নেই। পরীক্ষাগার না থাকায় বড় ধরনের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকেরা সময় দেন না বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পাঠদান নিয়েও অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

দেশে মাধ্যমিক শিক্ষার মান নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা বেশ পুরোনো। গত এক দশকে মা‌ধ্যমিক শিক্ষায় ভর্তি ও পাসের হার, উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বাড়েনি শিক্ষার মান। শিক্ষাবিদেরা বলে আসছেন, বাংলাদেশে শিক্ষার মান দিন দিন কমছে। নতুন এই গবেষণাতেও উঠে এল, মাধ্যমিক শিক্ষায় বড় একটি অংশ শিক্ষার মান নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। এই গবেষণায় শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

জানতে চাইলে মামুন উর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, আমরা গবেষণাটি করতে গিয়ে যারা কোচিং সেন্টার ও গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ে, তাদের কাছে এর কারণ জানতে চেয়েছি। শিক্ষার্থীরা বলেছে, স্কুলে যা পড়ানো হয়, তাতে তারা সন্তুষ্ট নয়। যার ফলে তাদের গৃহশিক্ষক ও কোচিং সেন্টারে যেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যে গবেষণাটি করেছি, সেটি দিয়ে হয়তো সারা দেশের মাধ্যমিক শিক্ষার মানের বিষয়টি উঠে আসবে না। তবে একটি বিভাগের শিক্ষার মানের বিষয়টি উঠে এসেছে।’

যে ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছে, তারা স্কুল কর্তৃপক্ষের সেবা নিয়ে অসন্তুষ্টি জানিয়েছে। স্কুল থেকে যেসব উপকরণ দেওয়া হয়, সেটি সঠিক সময়ে দেওয়া হয় না। শারীরিক শিক্ষা, খেলার মাঠ, স্কুলের সৌন্দর্য, ক্লাসরুমের পরিবেশ নিয়েও সন্তুষ্ট নয় শিক্ষার্থীরা। অপর্যাপ্ত লাইব্রেরি, কমনরুম, ওয়াশরুমের কথা উঠে এসেছে গবেষণায়। গবেষণায় সুপারিশে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক স্কুলে পরীক্ষাগার সুবিধা বাড়ানো জরুরি। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের পাঠদানের ত্রুটি দূর করা, পরীক্ষার ফলাফলসহ সব ধরনের তথ্য সঠিক সময়ে দেওয়া, স্কুলের পরিবেশ উন্নতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে গবেষণায়।

বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন