অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রবৃদ্ধি ৬.৭১ শতাংশ

রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধির ধারায় দেশ

বিজ্ঞাপন

ইউরোপের মন্দাসহ নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রপ্তানির প্রবৃদ্ধি ধারায় বাংলাদেশ। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৮৮ কোটি মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ হাজার ২০৭ কোটি মার্কিন ডলার। অর্থের হিসাবে আয় বেড়েছে ৮১ কোটি ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল রোববার রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। ইপিবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরের চেয়ে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে খুব এগোয়নি, বেড়েছে মাত্র দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। ইপিবি চলতি অর্থবছরের পাঁচ মাসে ১ হাজার ২৮৮ কোটি মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল। নির্ধারিত সময় শেষে আয় বেশি হয়েছে মাত্র ৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার।

রপ্তানি আয়-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতে (ওভেন ও নিট মিলিয়ে) ২০১৪-১৫ অর্থবছরের (জুলাই থেকে নভেম্বর) পাঁচ মাসে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিট পোশাকের চেয়ে ওভেনে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার বেশি।

নিট ও ওভেন মিলিয়ে পাঁচ মাসে ১ হাজার ৪৭ কোটি মার্কিন ডলারের রপ্তানি আয় করেছে বাংলাদেশ। এ সময়ে উভয় খাত মিলিয়ে ১ হাজার ৫২ কোটি ডলারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সামগ্রিকভাবে তৈরি পোশাক খাতের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম। তবে নিট পোশাক খাতে রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হলেও ওভেন খাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ কোটি ডলার কম আয় হয়েছে। গত অর্থবছরে একই সময়ে নিট ও ওভেন মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৯৬৯ কোটি মার্কিন ডলার।

ইপিবি জানিয়েছে, শুধু নভেম্বর মাসে দেশের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ছিল ২৭৫ কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। আর গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ বেশি। গত মাসে সরকারের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩৬ কোটি ডলার। আর ২০১৪ সালের নভেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছিল ২৪২ কোটি ডলার।

আয় কমেছে : চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, চিংড়ি, প্লাস্টিকজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল খাতে রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে কমে গেছে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল ৪৬ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার। আর চলতি বছরের একই সময়ে এ খাতে রপ্তানি আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ কোটি ৭৮ লাখ মার্কিন ডলারে।

চিংড়ি রপ্তানি করে গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ প্রায় সাড়ে ২৭ কোটি মার্কিন ডলার আয় করেছিল। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে তা কমে নেমে এসেছে প্রায় ২১ কোটি ডলারে। প্লাস্টিক পণ্য রপ্তানি করে এ অর্থবছরের পাঁচ মাসে আয় হয়েছে ৩ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলার। গত বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৬২ লাখ মার্কিন ডলার।

আয় বেড়েছে: তৈরি পোশাক ছাড়া রাবার, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি খাতে আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে।

গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাবার রপ্তানি করে আয় হয়েছিল প্রায় ৬৮ লাখ মার্কিন ডলার। সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে আয় হয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ মার্কিন ডলার। পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে আয় হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি ডলার, গত বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৫ কোটি ডলার। প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি করে চলতি অর্থবছরের উল্লিখিত সময়ে আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ২৩ কোটি মার্কিন ডলার, আগের বছর একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ১৮ কোটি ডলার।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন