default-image

চলমান সহিংস রাজনীতি বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতি খারাপ করে তুলেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে তা আরও খারাপের দিকে যাবে। এটা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক ঋণমান সংস্থা মুডির পর্যবেক্ষণ।
মুডির সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে যদিও বাংলাদেশের রেটিং দেওয়া হয়েছিল বিএ৩, যেটাকে আপাত স্থিতিশীল ধরা হয়। বাংলাদেশকে এখনো ওই রেটিংয়েই রেখেছে সংস্থাটি।
তবে গত বৃহস্পতিবার যে পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন মুডি প্রকাশ করেছে, তাতে চলমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ঋণমান পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাওয়ার আশঙ্কাই করা হয়েছে।
কোনো দেশের ঋণমান পরিস্থিতি ইতিবাচক থাকা মানে হলো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে ঋণ নিলে তা পরিশোধের সক্ষমতা ওই দেশের রয়েছে। বড় বিষয় হচ্ছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই ঋণমান পরিস্থিতি দেখেই কোন দেশে বিনিয়োগ করবেন, তা ঠিক করেন। আর বাংলাদেশের ঋণমান পরিস্থিতি যে খারাপের দিকে যাচ্ছে তার মানে হলো বিনিয়োগকারীরা সামনের দিনগুলোতে বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করতে পারে।
মুডির প্রতিবেদন বলছে, ইতিমধ্যেই চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির ধাক্কা লেগেছে বাংলাদেশের রপ্তানিতে। ২০১৪ সালের জুন থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত (চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে) রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ২ দশমিক ১০ শতাংশ। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১৫ দশমিক ১০ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি কমার এ নেতিবাচক ধারা লেগেছে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকেও। টানা অবরোধের কারণে তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদিত পণ্য বন্দর পর্যন্ত নিয়ে যেতে সমস্যা হচ্ছে।
মুডির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বাংলাদেশের ঋণসহায়তার বিষয়টিও। সংস্থাটি বলছে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সংস্কারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এপ্রিল ২০১২ থেকে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বাংলাদেশের ৯০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়ার কথা থাকলেও ঋণ ছাড় হয়েছে মাত্র ৬৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সংস্কার, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থায় সংস্কারের মতো কাজগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে সমস্যায় ফেলছে বর্তমান সহিংস পরিস্থিতি।
এত কিছুর মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে মুডির প্রতিবেদনে। এর একটি হলো বৈদেশিক মুদ্রার বড় রিজার্ভ। সংস্থাটি বলছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮১০ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রিজার্ভ বেড়েছে ৪১০ কোটি ডলার।
বৈদেশিক ঋণপরিস্থিতিও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে মুডির প্রতিবেদনে। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২০ দশমিক ৭০ শতাংশ। একে সহনীয় মাত্রার বলেই উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞাপন
বিশ্লেষণ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন