এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি একটি কমিটি গঠন করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে পাঁচ মহাব্যবস্থাপককে।

এই কমিটি সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেবে। তারা ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১০৯ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। এই ধারা অনুযায়ী, ব্যাংক ব্যবসা না হয়েও ব্যাংকিং সেবা দিলে ৭ বছর পর্যন্ত জেল ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধও করে দিতে পারবে। এই কমিটি নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশের বিভিন্ন স্থানে গজিয়ে ওঠা অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রথম আলোতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ‘লোপাট ২১ হাজার কোটি টাকা’ শিরোনামে প্রধান সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়,বহুস্তর বিপণন (এমএলএম) কোম্পানি, সমবায় সমিতি ও ই-কমার্সের নামে গত ১৫ বছরে ২৮০টি প্রতিষ্ঠান ২১ হাজার ১৭ কোটি টাকা লোপাট করেছে। সব ক্ষেত্রেই কৌশল ছিল গ্রাহককে অধিক মুনাফা ও বেশি ছাড় পাওয়ার লোভ দেখানো। লোপাট হওয়া টাকার এই হিসাব বাংলাদেশ ব্যাংক, যুবকের ঘটনায় গঠন করা কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও গ্রাহকদের দাবির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৬ সালে যুবকের ২ হাজার ৬০০ কোটি, ২০১১ সালে ইউনিপে টু ইউর ৬ হাজার কোটি, ২০১২ সালে ডেসটিনির ৫ হাজার কোটি এবং ২০০৮ থেকে ২০১৭ সাল সময়ে ২৬৬টি সমবায় সমিতির ৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এসবের বাইরে চলতি বছরে যুক্ত হয়েছে ই-অরেঞ্জ, ইভ্যালি, ধামাকা, এহসান গ্রুপসহ আরও কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা।

ওই সংবাদের ওপর ভিত্তি করে আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক দেশে অনুমোদনহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা ও সমবায় সমিতির কার্যক্রম তত্ত্বাবধানে নিষ্ক্রিয়তার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেন।এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়াই আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার (এমএফআই) দায়বদ্ধতা আছে।’

রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত নির্দেশনা দেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একজন ডেপুটি গভর্নরের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটিকে ৪৫ দিনের মধ্যে অনুমোদনহীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা, সমবায় সমিতি, স্থানীয় ঋণদাতা সম্পর্কে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যদি এমন কোনো প্রতিষ্ঠান পাওয়া যায়, তাহলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় তা বন্ধ করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আদালতের আদেশে ইতিমধ্যে কমিটি গঠিত হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি শিগগির কাজ শুরু করবে।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন