বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, গতকাল গ্রুপটির ১৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ নিয়মিত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে আরও প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার ঋণ। গ্রুপটি এর আগে তাদের অন্য চার প্রতিষ্ঠানের ঋণে পুনর্গঠন সুবিধা নিয়েছে, তাতে ওই ঋণের বিপরীতে নতুন করে পুনঃ তফসিল করতে হবে না। তবে এসব ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এদিকে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার অনুমোদনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার মধ্যে অন্যতম শর্ত হচ্ছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও দুদকের তদন্তে জালজালিয়াতির যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা প্রমাণিত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। পুনঃ তফসিল সুবিধা কার্যকরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অফ সাইট সুপারভিশন বিভাগের অনাপত্তি নিতে হবে। তবে জনতা ব্যাংক অ্যাননটেক্স গ্রুপকে নতুন করে আর কোনো ঋণ দিতে পারবে না।

জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুছ ছালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, গ্রুপটি ঋণ কীভাবে নিয়েছে, এর চেয়ে বড় বিষয় এখন টাকা আদায় করা। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রেখে ব্যবসা অব্যাহত রাখা। এতে ব্যাংকের টাকা আদায় হবে, দেশেরও উপকার হবে। গ্রুপটি ইতিমধ্যে ৮৬ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। আরও ২৫ কোটি টাকা জমা দেবে। এ জন্য সব ঋণ নিয়মিত করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও অনুমোদন দিয়েছে।

গত ২০১০ থেকে ২০১৫ সালে উদারভাবে ঋণ বিতরণ করে জনতা ব্যাংক। তখন অ্যাননটেক্স গ্রুপের ২২ প্রতিষ্ঠানকে ৬ বছরে দেওয়া হয় ৫ হাজার ৫০৪ কোটি টাকার ঋণ ও ঋণসুবিধা, যা এখন সুদাসলে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।

তবে জনতা ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, অ্যাননটেক্সকে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সুবিধা দিয়েছে, তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সব জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের আলামতকেই অস্বীকার করা হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য শাস্তির বদলে ওই গ্রাহক সুবিধা পাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা পুরো ব্যাংক খাতের জন্য খারাপ উদাহরণ হয়ে থাকবে।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন