default-image

বিদায়ী ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদসহ ঋণের পরিমাণ ৬৪২ কোটি টাকা কমেছে। করোনার মধ্যে যেখানে প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণ বেড়েছে, সেখানে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণের পরিমাণ কমে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে। যদিও এই সময়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানত বেড়েছে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, হয়তো বড় অঙ্কের ঋণ অবলোপন হয়েছে বা কেউ বড় অঙ্কের ঋণ শোধ করেছে। এ ছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদ অনেক বেশি হওয়ায় তাদের অনেক ঋণ ব্যাংকগুলো কিনে নিয়েছে। এসব কারণে ঋণ কমেছে। এ ছাড়া ঋণ কমার কোনো কারণ নেই। কারণ, সুদ প্রতিনিয়ত বাড়ছে, এতে মোট ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ারই কথা।

বিজ্ঞাপন
আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদ বেশি হওয়ায় অনেক ঋণ ব্যাংকগুলো কিনে নিয়েছে। এ কারণে তাদের ঋণ কমেছে বলে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২০ সালের মার্চের শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৯ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। তা জুনে কিছুটা কমে হয় ৬৯ হাজার ৫১১ কোটি টাকা। আর সেপ্টেম্বরে ঋণ আরও কমে ৬৮ হাজার ৯৩১ কোটি টাকায় নামে। ৬ মাসে তাদের ঋণ কমেছে ৬৪২ কোটি টাকা।

অন্যদিকে গত বছরের মার্চ শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা, যা জুনে কমে হয় ৪৩ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা। তবে সেপ্টেম্বরে আবার আমানত বেড়ে ৪৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকায় ওঠে। ফলে আলোচ্য ৬ মাসে আমানত বেড়েছে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে, তাতে ৩৫টির মধ্যে ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের তথ্যও যুক্ত রয়েছে। এগুলো হলো কর্মসংস্থান ব্যাংক, আনসার ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক। এ ছাড়া আমানত নিতে পারে না, এমন কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্যও প্রতিবেদনে রয়েছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, এপ্রিল থেকে ব্যাংকঋণে ৯ শতাংশ সুদ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমানতের সুদহারও কমিয়ে দেয় ব্যাংকগুলো। এ জন্য নানা সমস্যার পরও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত বাড়ছে।

করোনার মধ্যে অনেক ঋণ আদায় হয়েছে। সে তুলনায় নতুন ঋণ বিতরিত হয়নি। এ ছাড়া অনেক ঋণ ব্যাংকগুলো কিনে নিয়েছে। আবার কম সুদে ঋণ নিয়ে অনেকে শোধও করে দিয়েছেন। এ কারণেই ঋণ কমেছে।
গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান, বিএলএফসিএ ও এমডি, আইআইডিএফসি

মার্চ শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের ঋণ ছিল ৪ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বর কমে হয় ৪ হাজার ৮০ কোটি টাকা। একই সময়ে বেসরকারি খাতের ঋণ ছিল ৬৯ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে তা কমে হয়েছে ৬৮ হাজার ৫২২ কোটি টাকা।

একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা বলেন, অনেক ঋণের সুদ ১৬-১৭ শতাংশ ছিল। ব্যাংকের ঋণের সুদ ৯ শতাংশ নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পর অনেকেই ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন। আবার কম সুদের প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ নিয়েও অনেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ শোধ করেছেন।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) ভাইস চেয়ারম্যান ও আইআইডিএফসির এমডি গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, করোনার মধ্যে অনেক ঋণ আদায় হয়েছে। সে তুলনায় নতুন ঋণ বিতরিত হয়নি। এ ছাড়া অনেক ঋণ ব্যাংকগুলো কিনে নিয়েছে। আবার কম সুদে ঋণ নিয়ে অনেকে শোধও করে দিয়েছেন। এ কারণেই ঋণ কমেছে।

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের কারণে যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, তার একটি অংশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। তারা ইতিমধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজের ২১৬ কোটি টাকা বিতরণ করেছে এসএমই খাতে। এ ছাড়া অন্য প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণও দিচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। এরপরও ঋণ কমে গেছে।

বর্তমানে দেশের অন্তত ১০টি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এর মধ্যে কমপক্ষে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান খারাপ করেছেন বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার হালদার। রিলায়েন্স ফাইন্যান্স ও এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি থাকাকালে তিনি এসব প্রতিষ্ঠান দখল করে লুটপাট করেন। এই কর্মকাণ্ডে তাঁকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা সহায়তা করেন, যে কারণে গ্রাহকেরা এখন টাকা ফেরত পাচ্ছে না।

মন্তব্য করুন