default-image

করোনাভাইরাসের প্রকোপের কারণে নতুন করে কোনো ঋণ খেলাপি হচ্ছে না। এরপরও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ দুই বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অদক্ষতা ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্বল হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার মডেল প্রায় এক হওয়ার কারণেও ভালো ব্যবসা করতে পারছে না অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বর শেষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা, যা ওই সময়ের বিতরণ করা ঋণের ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে খারাপ করছে এসব প্রতিষ্ঠান। এর ফলে খেলাপি ঋণও বাড়ছে। কমপক্ষে ১০টি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সময়মতো টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এ কারণে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে অবসায়ক নিয়োগ হয়। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি অবসায়ন হয়নি। এতে আরও খারাপ হচ্ছে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিজ্ঞাপন

টাকা ফেরত দিতে না পারা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)। এগুলো প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের দখল করা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো দখলের সময় পি কে হালদার প্রথমে রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পরে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ছিলেন। আর এসব কাজে তাঁকে সব ধরনের সমর্থন ও সহায়তা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা। এসব প্রতিষ্ঠান দখলের পর নামে-বেনামে টাকা বের করেন তিনি। এখন এসব ঋণই খেলাপি হয়ে পড়েছে।

পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে উদ্যোক্তা ও পরিচালকেরা টাকা বের করেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক প্রতিবেদনে উঠে আসে। এসব ঋণ এখন খেলাপি হয়ে পড়ছে। তবে বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান এর মধ্যেও বেশ ভালো অবস্থায় আছে। ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভালো পারফরম্যান্সের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে খারাপ প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা ধরনের কেলেঙ্কারি।

মন্তব্য করুন