default-image

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীর পাশে ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ৩ হাজার ৫৫ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংক সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী। ৫৮৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার এই কম্বাইন্ড, অর্থাৎ তেল ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে মোট খরচ হবে ৩ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। ঋণ আয়োজনের নেতৃত্বে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক।

ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ারের ৬৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ মালিকানা ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের। বিদ্যুৎ প্রকল্পটির চেয়ারম্যান ইউনিক গ্রুপের নূর আলী। ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ শেয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজিক ফিন্যান্স লিমিটেডের। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত এই প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। তিনি স্ট্র্যাটেজিক ফিন্যান্সের চেয়ারম্যান আঞ্জুমান আর সাহিদের স্বামী। বাকি ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিক যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গুয়ানা পিআর হোল্ডিং বিভির।

দেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুতের বিকল্প নেই। তাই ইউনিক মেঘনাঘাট প্রকল্পে আমরা অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্য তিন ব্যাংকও আমাদের সঙ্গে আছে।
মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম, এমডি, অগ্রণী ব্যাংক
বিজ্ঞাপন

এই প্রকল্পে অর্থায়নকারী চার ব্যাংকের ঋণ বিভাগগুলো সূত্রে জানা যায়, গত বছরের আগস্ট-সেপ্টেম্বর সময়ে ঋণ অনুমোদন করা হয়। ঋণের মেয়াদ ১০ বছর। তবে পরিশোধ শুরু হবে তিন বছর পর। এই ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ। প্রথমে ৪ ব্যাংক মিলে ২ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করলেও পরে তা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৫৬ কোটি টাকা করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা মেয়াদি ঋণ ও বাকি ৬১ কোটি টাকা চলতি মূলধন ঋণ। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক ৯৬৮ কোটি টাকা, সোনালী ব্যাংক ৯৮৮ কোটি টাকা, জনতা ৫৪৩ কোটি টাকা ও রূপালী ব্যাংক ৩৫৫ কোটি টাকা দেবে।

ঋণ বিতরণের আগে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ অবশ্য বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে। এর অন্যতম হলো এই প্রকল্পের পরিচালকদের প্রত্যেকেরই ঋণের বিপরীতে ব্যক্তিগত গ্যারান্টি প্রদান, প্রকল্পের যন্ত্রপাতি সংগ্রহের বিষয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পরিদর্শন। এ ছাড়া প্রকল্প স্থাপনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, নদী কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ থেকে অনাপত্তিপত্র নেওয়া এবং কোনো পরিচালক ইতিমধ্যে খেলাপি হয়ে থাকলে তা এই ঋণ বিতরণের আগে নিয়মিত করা।

জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুতের বিকল্প নেই। তাই ইউনিক মেঘনাঘাট প্রকল্পে আমরা অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্য তিন ব্যাংকও আমাদের সঙ্গে আছে।’

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সর্বোচ্চ শেয়ারের মালিক ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক ঘোষণায় জানিয়েছে, ইউনিক মেঘনাঘাট পাওয়ার কাতারের দোহাভিত্তিক কোম্পানি নেবারস পাওয়ার ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাছে ১৪ হাজার ৬৪১টি সাধারণ শেয়ার বিক্রি করবে, যা কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে এসব শেয়ারের মোট মূল্য ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪১০ টাকা।

এর সঙ্গে প্রিমিয়াম মিলিয়ে নেবারস পাওয়ারের কাছে মোট ২০৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা বা ২ কোটি ৪০ লাখ ৬৮ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার দামে শেয়ার বিক্রি করা হবে।

বিজ্ঞাপন
ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন