দেশের কৃষকেরা যে পরিমাণ নতুন ঋণ নিচ্ছেন তার চেয়ে বেশি করে পুরোনো ঋণ পরিশোধ করছেন। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম সাত মাস জুলাই-জানুয়ারিতে ১৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ১৩ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে এবার ঋণ বিতরণ বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে কৃষকেরা ঋণ পরিশোধ করেছেন ১৬ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। এই তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ পরিশোধে যে ছাড় ছিল, কৃষকেরা তা গ্রহণ করেননি। প্রণোদনার ঋণ পাওয়ায় তাঁদের হাতে উদ্বৃত্ত টাকা চলে গেছে। এই সুযোগ পেয়ে অনেক কৃষক ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন। এর ফলে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ বেশি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ব্যাংক খাতে ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৫৪ শতাংশ বা ১৪ হাজার ১৪৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। আগের অর্থবছরের মোট ২৪ হাজার ১২৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রথম ৭ মাসে বিতরণ হয়েছিল ১৩ হাজার ১০৪ কোটি টাকা বা ৫৪ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, কয়েকটি ব্যাংক চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসেই ঋণ বিতরণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ অর্জন করেছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার ২০ শতাংশও বিতরণ করতে পারেনি কিছু ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে বিদেশি খাতের উরি ব্যাংক, স্থানীয় বেসরকারি খাতের এবি, কমিউনিটি, গ্লোবাল ইসলামী, আইএফআইসি, সীমান্ত, স্ট্যান্ডার্ড, দি সিটি, ইউনিয়ন ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী হোসেন প্রধানিয়া বলেন, ‘কৃষিঋণের যদি যথাযথ ব্যবহার হয়, তাহলে আদায়ও ভালো হয়। প্রকৃত কৃষকেরা সব সময়ই নিয়মিত ঋণ ফেরত দেন। প্রণোদনার যে ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল, আমরা তার পুরোটা বিতরণ করেছি। নতুন নতুন কৃষক খুঁজেও ঋণ দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের এপ্রিলে কৃষকদের জন্য দেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজের সুদ হার কমিয়ে ৪ শতাংশে নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকও কৃষকদের চলতি মূলধন দেওয়ার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে। অবশ্য কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা সব ঋণের সুদই এখন ৪ শতাংশ।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে কৃষিঋণের পরিমাণ ৪৪ হাজার ৩২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত জানুয়ারি পর্যন্ত খেলাপি ছিল ৪ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১০ শতাংশ।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন