বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, সিএমএসএমই খাতের যেসব উদ্যোক্তা গত ২০২০–২১ অর্থবছরে প্রণোদনা ঋণ পেয়েছেন, তাঁরা কেউ এবার ঋণ পাবেন না। আর শিল্প ও সেবা খাতের উদ্যোক্তারা চলতি মূলধনের

৩০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিতে পারেন। গত অর্থবছরে প্রভাবশালী ও বড় বড় উদ্যোক্তাদের বেশির ভাগই সে পরিমাণ অর্থাৎ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নিয়ে ফেলেছেন। সে জন্য এবার প্রণোদনার ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভাগ্য খুলতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রথম দফায় ঋণ অনুমোদনে বিভিন্ন মহলের অনেক চাপ ছিল। ফলে বড়রাই বেশি ঋণ পেয়েছে। আবার অনেকেই সীমার কাছাকাছি ঋণ নিয়ে ফেলেছেন। ফলে এবার অন্য উদ্যোক্তাদের ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত বছর যাঁরা ঋণ পাননি, তাঁদের ব্যাংকগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা মনে করেন, এসব ঋণে সুদ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। তাই সবারই প্রণোদনা ঋণ পাওয়ার অধিকার আছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তাদের বড় অংশই ট্রেডিংনির্ভর। ঋণ দিতে হয় উৎপাদন খাতে। এ জন্য প্রণোদনার ঋণ দিতে আমরা নতুন উদ্যোক্তা খুঁজছি।
আবুল কাশেম মো.শিরিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মহিউদ্দিন আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘নতুন করে ঋণ বিতরণের জন্য ইতিমধ্যে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ঋণ অনুমোদনের জন্য নিয়মিত প্রস্তাব আসছে।’

প্রসঙ্গত, কম সুদের এই ঋণ কারা পাবেন, তার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

শিল্প ও সেবা খাত

গত বছরের এপ্রিলে বড় শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। পরে শেষ পর্যন্ত তা বেড়ে হয় ৪০ হাজার কোটি টাকা। তবে এই প্যাকেজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয় রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালী ও বড় ব্যবসায়ীরা বেশির ভাগ ঋণ নেয়। যেমন, আবুল খায়ের, এস আলম, বিএসআরএম, বসুন্ধরা, প্রাণ, সিটি, কেএসআরএম, এসিআই, জিপিএইচ, নাভানা, বেক্সিমকো, জাবের অ্যান্ড জুবায়ের, স্কয়ার ও থারমেক্স—এ রকম কিছু প্রতিষ্ঠানই ঋণ নেয় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা।

সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কম সুদের এই ঋণ ছিল স্বপ্নের মতো। কিন্তু অধিকাংশ সাধারণ ব্যবসায়ীই তা পাননি। বাংলাদেশ ব্যাংক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিভিন্ন প্যাকেজের ঋণগ্রহীতার সংখ্যা জানালেও এই প্যাকেজের বিষয়ে জানায়নি।

চলতি ২০২১–২২ অর্থবছরের ৩৩ হাজার কোটি টাকা বিতরণের জন্য ব্যাংকগুলোকে ঋণের সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে ইসলামী ব্যাংক। অন্য উল্লেখযোগ্য ব্যাংকের মধ্যে বিদেশি খাতের এইচএসবিসি ১ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১ হাজার ১৩০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারবে। এ ছাড়া ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ দিতে পারবে ইউসিবিএল, এক্সিম, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও রূপালী ব্যাংক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এক্সিম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ হায়দার আলী মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে দ্বিতীয় দফায় প্রণোদনার ঋণ বিতরণ শুরু করেছি। নিয়মের মধ্যে পড়লে এবার সাধারণ ব্যবসায়ীরা কম সুদে ঋণ পাবেন। কারণ, বড় অনেকের ঋণের সীমা শেষ হয়ে গেছে। আর সিএমএসএমই খাতেও দ্বিতীয় দফায় ঋণ নেওয়ার সুযোগ নেই।’

সিএমএসএমই খাত

গত ২০২০–২১ অর্থবছরে কুটির, অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়। শেষ পর্যন্ত বিতরণ হয় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এই ঋণ পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৭৩৩ জন গ্রাহক।

চলতি ২০২১–২২ অর্থবছরে ঋণ বিতরণ দিতে শর্ত শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তারা শুধু চলতি মূলধন নিতে পারতেন। এখন তাঁরা মেয়াদি ঋণও নিতে পারবেন। পাশাপাশি কোন ব্যাংক কত টাকা দিতে পারবে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই সীমাও নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। সে অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংক ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংক ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ও ইউসিবিএল ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা দিতে পারবে।

ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো.শিরিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রণোদনা ঋণ দিতে আমাদের যত টাকা প্রয়োজন, প্রথম দফায় তার এক-তৃতীয়াংশ পেয়েছি। এবার ঘাটতির কিছুটা পূরণ হবে। ফলে অন্য গ্রাহকদের দিকে আমরা মনোযোগ দিতে পারব। ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতের উদ্যোক্তাদের বড় অংশই ট্রেডিংনির্ভর। ঋণ দিতে হয় উৎপাদন খাতে। এ জন্য প্রণোদনার ঋণ দিতে আমরা নতুন উদ্যোক্তা খুঁজছি।’

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন