বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আমার নতুন করে ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগদান আটকে যায়। আবার প্রিমিয়ার লিজিংও কাজে যোগদানের সুযোগ দেয়নি। এভাবে “নো ম্যানস ল্যান্ডে” রাখার অর্থ কী
আবদুল হামিদ মিয়া

আবদুল হামিদ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়াদে প্রিমিয়ার লিজিংয়ে অনিয়মের মাধ্যমে কোনো ঋণ বিতরণ হয়নি। যা হয়েছে, সব আগের। আদায় না হওয়ায় এসব ঋণ আমার সময়ে খেলাপি হয়ে গেছে। এই দোষ আমার হবে কেন?’

আবদুল হামিদ মিয়া ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল এমডি হিসেবে প্রিমিয়ার লিজিংয়ে যোগ দেন। আর প্রতিষ্ঠানটি থেকে তিনি পদত্যাগ করেন এ বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি। একই দিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক চিঠি দিয়ে জানায়, এমডি পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যাবে না। কারণ, হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আবদুল হামিদ মিয়ার মেয়াদে সংঘটিত নানা অনিয়ম, অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ ও প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্বল করার নানা চিত্র তুলে ধরা হয়।

নথিপত্র অনুযায়ী, আবদুল হামিদ মিয়া এমডি হিসেবে যোগ দেওয়ার সময় প্রিমিয়ার লিজিংয়ের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা পদত্যাগের সময় বেড়ে হয় ৪৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রাখা ১৭১ কোটি টাকা ফেরত পাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটি, যার একটি অংশ রাখা হয় বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারের প্রতিষ্ঠানে। ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা তোলা হয়। এ ছাড়া ঋণ অনুমোদন, পুনঃ তফসিল এবং পুনর্গঠনেও নানা অনিয়ম হয়। অনিয়মের কারণে লিজিংটি থেকে যে আমানতকারীরা অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না, সে চিত্রও উঠে এসেছে।

কয়েক দফা চিঠি চালাচালির পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত জুলাইয়ে প্রিমিয়ার লিজিংকে জানায়, এসব আর্থিক দুরবস্থার জন্য আবদুল হামিদ মিয়ার দায় পাওয়া গেলে তিনি দায়ী থাকবেন, এমন অঙ্গীকারনামা দিলেই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রিমিয়ার লিজিংয়ের কাছে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা জমা দেন আবদুল হামিদ মিয়া। এতে তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়ে দোষী প্রমাণিত হলে তিনি তা মেনে নেবেন।

এ নিয়ে আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, ‘আমার নতুন করে ন্যাশনাল ব্যাংকে যোগদান আটকে যায়। আবার প্রিমিয়ার লিজিংও কাজে যোগদানের সুযোগ দেয়নি। এভাবে “নো ম্যানস ল্যান্ডে” রাখার অর্থ কী? একজন নাগরিক হিসেবে আমাকে কাজ করতে দেওয়া হবে না, এটা কোনো সিদ্ধান্ত হলো? এ ছাড়া ছয় মাস পর প্রিমিয়ার লিজিং পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। তবে পাওনা আর্থিক সুবিধা দিচ্ছে না।’

১৯৭৯ সালে ব্যাংকিং চাকরিতে যোগদান করা আবদুল হামিদ মিয়া সোনালী, আইএফআইসি, সাউথইস্ট ও ন্যাশনাল ব্যাংকে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন