default-image

গ্রাহকদের জমা টাকার সুরক্ষার জন্য ব্যাংকগুলোকে আমানতের ১৩ শতাংশ অর্থ বিধিবদ্ধ জমা (এসএলআর) হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখতে হয়। আর তা সংরক্ষণ করতে হয় সরকারের ট্রেজারি বিল-বন্ড কেনার মাধ্যমে। সংকটে পড়া ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা) তা সংরক্ষণ করতে পারেনি। ফলে ২০১৭-এর অক্টোবর থেকে ২০১৯–এর অক্টোবর পর্যন্ত ৮৬ কোটি টাকা জরিমানা হয় ব্যাংকটির।

এখন সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ওই সময়ে এসএলআর সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা নেই ব্যাংকটির। ফলে জরিমানাও প্রযোজ্য হবে না। এর মাধ্যমে ব্যাংকটিকে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বুধবার এ–সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সম্মতি জানিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংকটিকে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংকট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাই সরকার ব্যাংকটিকে এই সুযোগ দিয়েছে। আমরা আশা করি, ব্যাংকটি এখন নিয়ম মেনে ব্যাংকিং করবে।’

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডকে ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এসএলআর সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, ব্যাংকে জমা রাখা গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষায় ওই আমানতের ১৭ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা রাখতে হয়। নগদ অর্থ, বিল-বন্ডের মাধ্যমে এ অর্থ জমা রাখতে পারে ব্যাংকগুলো। এর মধ্যে ৪ শতাংশ অর্থ নগদ জমার হার হিসেবে (সিআরআর) আর বাকি ১৩ শতাংশ এসএলআর হিসেবে রাখতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে সিআরআর ও এসএলআরের অর্থ জমা রাখতে না পারায় পদ্মা ব্যাংককে প্রায় ১৪১ কোটি টাকা দণ্ড সুদ ও জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে ৫৫ কোটি টাকা সিআরআরের ও ৮৬ কোটি টাকা এসএলআরের। সেই জরিমানার টাকা জমা দিতে ব্যাংকটিকে গত বছরের জানুয়ারিতে ৫ বছর সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারা অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যাংকটিকে এসএলআর সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে সরকারের কাছে চিঠি দেয়। সরকার সম্মতি দিলে ব্যাংকটিকে এসএলআরের জরিমানার পরিবর্তে সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ফলে ৮৬ কোটি টাকা জরিমানা থেকে অব্যাহতি পেল ব্যাংকটি।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন