ক্রেডিট কার্ডে কোন সেবায় কত মাশুল

ছবি: সংগৃহীত

ক্রেডিট কার্ডের খরচ নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। অভিযোগও আছে বিস্তর। কেউ বলেন, গলাকাটা খরচ। আবার কারও মতে, হিসাব করে চললে বাড়তি খরচ হয় না।

চলুন ক্রেডিট কার্ডের খরচ কেমন, সেটি আমরা আজ পর্যালোচনা করে দেখি। প্রথমেই দেখা যাক সুদের বিষয়টি। ক্রেডিট কার্ডের ঋণে বেশির ভাগ ব্যাংকই এখন সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ নিচ্ছে। তবে এর চেয়ে কিছুটা কম নিচ্ছে ডাচ্‌বাংলাসহ কিছু ব্যাংক। অন্যদিকে বার্ষিক মাশুলে মওকুফ সুবিধাও পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকভেদে ক্রেডিট কার্ডে বছরে অন্তত ১২ থেকে ১৮টি লেনদেন করতে হয়।

দেশে ক্রেডিট কার্ড সেবায় সবার শীর্ষে রয়েছে বেসরকারি খাতের দি সিটি ব্যাংক। এই ব্যাংক আমেরিকান এক্সপ্রেস (অ্যামেক্স) কার্ডের সেবা দিচ্ছে। অন্য ব্যাংকগুলোর একেকটি একেক বিদেশি ব্র্যান্ডের ক্রেডিট কার্ড সেবা দিচ্ছে। এসব সেবার মাশুল প্রায় কাছাকাছি। প্রতিটি ব্যাংকের ওয়েবসাইটে কার্ডের মাশুলের বিস্তারিত দেওয়া থাকে। তাই কার্ড নেওয়ার আগে তা দেখে নিলে আপনার জন্য ভালোই হবে।

উদাহরণ হিসেবে আমরা অ্যামেক্স কার্ডের মাশুলের হিসাব জানাব। অ্যামেক্সের ১০ ধরনের কার্ড রয়েছে। এর মধ্যে এখানে এক মুদ্রার অ্যামেক্স ক্রেডিট কার্ড ও দ্বৈত মুদ্রার ক্রেডিট কার্ডের হিসাব তুলে ধরা হচ্ছে। এক মুদ্রার অ্যামেক্স কার্ডে বার্ষিক মাশুল দেড় হাজার টাকা, অতিরিক্ত কার্ড নিলে ৭৫০ টাকা। কার্ড হারিয়ে গেলে দিতে হবে ৩০০ টাকা। দ্বৈত মুদ্রার কার্ডে মাশুল বছরে দুই হাজার টাকা, অতিরিক্ত কার্ড নিলে আরও এক হাজার টাকা। কার্ড হারিয়ে গেলে দিতে হবে ৫০০ টাকা।

ক্রেডিট কার্ডে খরচের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করলে গুনতে হবে ৬০০ টাকা। আর ক্রেডিট কার্ডে টাকা তুললে দিতে হবে ১৫০ টাকা। কার্ডে খরচ করার পর ও টাকা উত্তোলনের পর নির্ধারিত সময়ে শোধ না দিলে বছরে ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। দুই কার্ডে খরচের সীমার অর্ধেক টাকা নগদে তোলা যায়। কার্ড নিতে সিআইবি মাশুল বাবদ দিতে হয় ১৫০ টাকা, এসএমএস মাশুল বাবদ দিতে হয় ২০০ টাকা। কার্ডের পিন নতুন করে নিতে চাইলে দিতে হবে ৫০০ টাকা।

আরেকটি তথ্য জেনে রাখুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে ব্যাংকগুলো এখন নতুন কার্ড ব্যবহারের আগে কোনো মাশুল নিচ্ছে না; অর্থাৎ কার্ড ব্যবহার শুরু করার পরই কেবল মাশুল আরোপ হবে।