বেসরকারি খাতে ঋণ

ব্যাংক দিচ্ছে, ব্যবসায়ীরাও নিচ্ছেন

  • করোনাভাইরাসের প্রভাবে বেসরকারি খাত ঝিমিয়ে পড়লেও আবার যেন জেগে ওঠার ইঙ্গিত মিলছে।

  • চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ ৪২ হাজার ৫০ কোটি টাকা বেড়েছে।

  • ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত তহবিল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। কমানো হয় নগদ জমার হার ও বিধিবদ্ধ সংরক্ষণের হার।

ব্যাংক দিচ্ছে, ব্যবসায়ীরাও নিচ্ছেন
বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের প্রভাবে বেসরকারি খাত ঝিমিয়ে পড়লেও আবার যেন জেগে ওঠার ইঙ্গিত মিলছে। সুরক্ষাসামগ্রী তৈরিতে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে। আগের প্রকল্প চালু রাখতেও অনেকেরই ঋণ নেওয়া বেড়েছে। বেতন দিতেও প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ গেছে। আবার এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকের ঋণ কেনার প্রবণতাও বেড়েছে। এর ফলে কাগজে–কলমে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ ৪২ হাজার ৫০ কোটি টাকা বেড়েছে। ২০১৯ সালের একই সময়ে বেড়েছিল ৪৪ হাজার ১১৫ কোটি টাকা।

গত এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ঋণের সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে সব ব্যাংকে ঋণের ভালো চাহিদা তৈরি হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা ঝিমিয়ে পড়ে। এরপর কম সুদের প্রণোদনা প্যাকেজ চালু হলে ব্যবসা চালাতে আবার ঋণ নিতে শুরু করেন উদ্যোক্তারা।

ব্যাংকাররা বলছেন, এই সময়ে বড় আকারের নতুন প্রকল্প হচ্ছে না, এটা ঠিক। তবে কম সুদের প্রণোদনা প্যাকেজ চালু হওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণে গতি এসেছে। যাঁরা সুযোগ পাচ্ছেন, তাঁরা ২ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদের এই ঋণ নিচ্ছেন। অনেকে ঋণের যথাযথ ব্যবহার করছেন। নতুন ঋণ নিয়ে আগের ঋণ শোধ করছেন কেউ কেউ। এক ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অন্য ব্যাংকে স্থায়ী আমানত রাখার ঘটনাও অবশ্য ঘটছে। এসব কারণে ঋণ বিতরণ বাড়ছে। করোনাজনিত বিভিন্ন প্যাকেজ থেকে এ পর্যন্ত ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই শেষে বেসরকারি খাতে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯৫ হাজার ২০১ কোটি টাকা, যা ২০১৯ সালের জুলাইয়ের তুলনায় ৯ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। তখন ঋণ ছিল ১০ লাখ ২ হাজার ৯৬৬ কোটি টাকা। গত জুনে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে বেসরকারি খাতে ঋণে প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

জানা যায়, করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে ব্যাংকগুলোতে গ্রাহকদের টাকা উত্তোলনের হিড়িক পড়ে। এ জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত তহবিল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। কমানো হয় নগদ জমার হার ও বিধিবদ্ধ সংরক্ষণের হার। এ ছাড়া টাকা ধার দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রেপো রেট কমিয়েছে। কমানো হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী সুদহারও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব উদ্যোগের ফলে ব্যাংকগুলোতে তারল্যসংকট হয়নি, বরং ঋণ বিতরণে ভালো গতি এসেছে। তবে তদারকি বন্ধ থাকার কারণেও ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো ঋণ নিতে পেরেছেন। এখন চ্যালেঞ্জ হলো, ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। এর ফলে ঋণ দিতে কোনো তহবিলের সংকট নেই। প্রণোদনার ঋণ যাচ্ছে।
শাহ আলম সারওয়ার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংক

জানতে চাইলে বেসরকারি খাত আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ আলম সারওয়ার প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। এর ফলে ঋণ দিতে কোনো তহবিলের সংকট নেই। প্রণোদনার ঋণ যাচ্ছে। এর বাইরেও যেসব ভালো উদ্যোক্তা ঋণ চাইছেন, তাঁরা পাচ্ছেন। বাণিজ্যেও ভালো ঋণ যাচ্ছে। ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ছে।

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। গত অর্থবছরেও এই একই লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। কিন্তু এর বিপরীতে ঋণ বেড়েছিল ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, প্রণোদনার ঋণ দ্রুত বিতরণে ব্যাংকগুলোকে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে ঋণ বিতরণে গতি ফিরেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন