default-image

কম সময়ে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় বড় সফলতা দেখিয়েছে বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ব্যাংক। দুই বছরে এজেন্টদের মাধ্যমে ব্যাংকটি প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। দেশে আর কোনো ব্যাংক এজেন্টদের মাধ্যমে এত ঋণ দিতে পারেনি। সেবাটি প্রথম চালু করা ব্যাংক এশিয়া এই সময়ে ঋণ দিয়েছে ৫১৭ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ব্যাংকিং সেবার সফলতা এখন আর শুধু হিসাব খোলা, আমানত সংগ্রহ ও ভাতা বিতরণে সীমিত থাকা উচিত নয়। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতেও জোর দিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন গ্রাম পর্যায়ে ব্যাংকঋণ ছড়িয়ে দেওয়া। এতে গ্রামীণ উদ্যোক্তারা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি মহাজনি প্রথাও ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হবে। এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক ব্যাংক যথেষ্ট সফলতা দেখিয়েছে।

এদিকে বিদায়ী ২০২০ সালে সার্বিকভাবে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই বছরে আমানত ১১২ শতাংশ ও ঋণ ৩২৪ শতাংশ বেড়েছে। একই বছরে এজেন্ট ও আউটলেটের সংখ্যাও বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। আর অ্যাকাউন্ট বা হিসাবসংখ্যা বেড়েছে ৯১ শতাংশ।

দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু হয় ২০১৪ সালে। তখন থেকে এখন পর্যন্ত এই সেবায় ঋণ বিতরণ হয়েছে ১ হাজার ৮৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০১৮ সালের অক্টোবরে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করা ব্র্যাক ব্যাংক একাই এ পর্যন্ত দিয়েছে ১ হাজার ৭০ কোটি টাকা। ঋণ পেয়েছেন ১৮ হাজার ৪১৭ জন গ্রাহক। এই ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ঋণ বিতরণকারী শীর্ষ অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্যাংক এশিয়া ৫১৭ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংক ২৬৫ কোটি, ডাচ্–বাংলা ২৬ কোটি, আল-আরাফাহ ইসলামী প্রায় ১০ কোটি ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক সাড়ে ৯ কোটি টাকা বিতরণ করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিসেম্বরভিত্তিক প্রতিবেদন অনুযায়ী সারা দেশে ব্র্যাক ব্যাংকের ৪২৭টি এজেন্ট ও ৪৮১টি আউটলেট রয়েছে। আর হিসাব খোলা হয়েছে ৬৫ হাজার ৪৭০টি। এসব হিসাবে আমানত জমা হয়েছে ৩১৫ কোটি টাকা ও ঋণ গেছে ১ হাজার ৫৮ কোটি টাকা। ব্যাংকটির এজেন্টদের মাধ্যমে ১৪৫ কোটি টাকার প্রবাসী আয়ও বিতরণ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই ধরনের এজেন্টের মাধ্যমে সেবা প্রদানের ফলেই ঋণ বিতরণে ব্র্যাক ব্যাংক শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে। বর্তমানে ব্যাংকটি এসএমই ইউনিটের অধীনে ২৬২টি ও স্বতন্ত্র ২৩৮টি এজেন্টের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। এসএমই ইউনিটে ব্যাংকটির স্থায়ী কর্মীরা কাজ করেন। ফলে ঋণও বাড়ছে। আবার অনেক সময় শাখার ঋণের কিছু অংশও এজেন্টদের মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে। আর সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের মাঠকর্মীরা এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ঋণ দিতে কাজ করে যাচ্ছে। গড় ঋণ বিতরণের পরিমাণ ৫ লাখ টাকার মতো।

ব্র্যাক ব্যাংকের বিকল্প ব্যাংকিং চ্যানেলে (এবিসি) প্রধান নাজমুর রহিম বলেন, ‘এজেন্টদের কারণে আমরা একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দিতে পারছি। যেটা আগে সম্ভব হয়নি। আমাদের মাঠকর্মীরা এজেন্টদের সঙ্গে কাজ করছেন। ফলে অল্প সময়ে বেশি ঋণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’

এদিকে কোনো অনিয়ম পেলে এজেন্ট বাতিলও করছে ব্র্যাক ব্যাংক। এরই মধ্যে বগুড়া, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, নওগাঁ ও ফরিদপুরে সাতজন এজেন্টকে বাতিল করা হয়।

সর্বস্তরের মানুষকে ব্যাংকিং সেবায় টানার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশে নতুন ধাঁচের এই ব্যাংকিং সেবা চালু হয়। তবে করোনাকালেই সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সাত বছরে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার গ্রাহক বেড়ে প্রায় এক কোটি হয়েছে। বর্তমানে দেশব্যাপী পাড়া-মহল্লা ও হাটবাজারে এ রকম প্রায় ১২ হাজার এজেন্ট এই সেবা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন মতে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে হিসাব ছিল ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৬, যা গত বছর শেষে দাঁড়িয়েছে ৯৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৬৩। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নারীর হিসাব ছিল ২২ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭৫, যা গত বছর শেষে বেড়ে হয়েছে ৪৩ লাখ ৯৮ হাজার ১২২। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে আমানত ছিল ৭ হাজার ৫১৭ কোটি টাকার, যা গত বছর শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা।

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আরফান আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘করোনার শুরুতে অনেক শাখা বন্ধ ছিল। এজেন্টরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। বাড়িতে গিয়ে গ্রাহকদের সেবা দিয়েছেন। আর ঋণ বিতরণের জন্যও এজেন্টদের বেছে নেওয়া হচ্ছে। এটা ভালো উদ্যোগ। এর ভালো সুফল আসবে।’

বিজ্ঞাপন
ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন