বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুঁজিবাজারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা (অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট) কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে গত ১০ নভেম্বর তাদের সম্পদ ও দায়ের তথ্য চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্পদ ও দায়ের পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর সম্পদ-দায়ের তথ্যও চাওয়া হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সুপারিশ মেনে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজটি করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করে।

এ ঘটনা জেনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানায় বিএসইসি এবং গত ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে পাল্টা চিঠি পাঠিয়ে কোম্পানিগুলোর কাছে এভাবে তথ্য চাওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তথ্যগুলো পরিসংখ্যানের কাজে ব্যবহার করা হবে। আইএমএফ বা বিশ্বব্যাংকের মতো সংস্থা যখন চায়, তখন দিতে হয়। বিএসইসি আগে একবার তা দিতে একমতও হয়েছিল। এখন কী সমস্যা হয়েছে, বোধগম্য নয়।’

দুই সংস্থার মত বিপরীতমুখী

বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠির জবাবে গভর্নরকে চিঠি পাঠিয়ে বিএসইসি বলেছিল, পুঁজিবাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বাজারের নিয়ন্ত্রক হিসেবে তদারকির দায়িত্ব পালন করে তারা। প্রতিটি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও পক্ষের কাছে থাকা তথ্য মূল্য সংবেদনশীল হতে পারে, যা বিএসইসির অনুমোদন ছাড়া বা অনুমোদিত পন্থা ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ ও প্রকাশ করা যায় না। বিদ্যমান ১৯৬৯ সালের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশের ১৯ ধারায় এসব তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৯ ডিসেম্বর পাল্টা চিঠিতে বিএসইসিকে বলেছে, ধারাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রে খাটবে না। আইনগতভাবে অধিকারপ্রাপ্ত নয়, এমন ব্যক্তির কাছে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএসইসির অনুমতি নেওয়ার কথা বলা আছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর প্রযোজ্য নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২-এর আর্টিকেল-৬৯ অনুযায়ী সরকারসহ যেকোনো ব্যক্তির কাছ থেকে গবেষণা ও পরিসংখ্যানের কাজে ব্যবহারের জন্য তথ্য সংগ্রহের আইনগত অধিকার রাখে বাংলাদেশ ব্যাংক। সুস্পষ্ট আইনগত অধিকার থাকা সত্ত্বেও বিএসইসির সঙ্গে আলোচনা করে ও তাদের সম্মতি নিয়েই কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ শুরু করে।

বিএসইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর সম্পদ ও দায়ের তথ্য যে চাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বিএসইসি তা জানেই না। নভেম্বরে পাঠানো চিঠিতেও ওই কথাই বলেছে বিএসইসি।

এ ব্যাপারে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নিজের জায়গায় ঠিক আছে। তবে বিএসইসি থেকে নিবন্ধন নেওয়া প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া কাউকে তথ্য দিতে পারে না। দিলে তারা আইন লঙ্ঘনের মুখে পড়বে।

আরও যেসব দ্বন্দ্ব রয়েছে

এসব তথ্য চাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসিসহ পুঁজিবাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত সব পক্ষ নিয়ে একটি বৈঠক হয়েছিল ২০১৯ সালের ১০ জানুয়ারি। এরপর বিএসইসি ২০১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছিল, অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও দায়ের তথ্য অভিন্ন ফরম্যাটে পাঠানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছে। তবে মিউচুয়াল ফান্ডের তথ্য দেওয়ার ধরনে কিছু সংশোধনী আনতে হবে।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে,সেই কাজ আর হয়নি। ২০০১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত মোট ৫২টি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি লাইসেন্স নিয়েছে। এর মধ্যে কার্যকর কোম্পানি ৪১টি, অকার্যকর ১০টি। কার্যকরগুলো বর্তমানে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার সম্পদ ব্যবস্থাপনা করছে বলে জানা গেছে।

তথ্য দেওয়ার এ মতবিরোধের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় নিয়ে দুই সংস্থার অবস্থান ভিন্ন। যেমন শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ খতিয়ে দেখতে গত আগস্টে ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস পরিদর্শন শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিএসইসি তা ইতিবাচকভাবে দেখেনি।

ওয়ান ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনে অসত্য তথ্য দেওয়া এবং সংশোধন না করায় ওয়ান ব্যাংককে জরিমানা করারও বিরোধিতা করে বিএসইসি।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন