যেভাবে নিজের অর্থ সুরক্ষিত রাখবেন

বর্তমান সময়ে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের একটা বড় অংশেরই ভরসা হলো ক্রেডিট কিংবা ডেবিট কার্ড। এ ছাড়া দেশে আর্থিক লেনদেনের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ এখন সম্পন্ন হচ্ছে মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) মাধ্যমে। কিন্তু সামান্য অসতর্কতায় সহজ ডিজিটাল লেনদেনের এসব মাধ্যম হয়ে যেতে পারে আপনার জন্য আর্থিক ক্ষতির কারণ। তাই জেনে রাখুন, ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে আপনার অর্থ কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেইনিং একাডেমির (বিআইবিএম) সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান আলম প্রথম আলোকে জানান, প্রযুক্তিগত দিক থেকে ব্যাংকের কার্ডগুলো মোটামুটি সুরক্ষিত থাকে। এমএফএস–ব্যবস্থাও বেশ সুরক্ষিত বলা চলে। ফলে সেবাদাতাদের অবস্থান থেকে সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি অনেকটাই কম থাকে। তাই বাংলাদেশে কেনাকাটাসহ অর্থ লেনদেনের সময় গ্রাহকের অসতর্কতার কারণেই বেশি জালিয়াতির ঘটনা ঘটছে।

ক্রেডিট কার্ডের ঝুঁকি এড়াতে একজন গ্রাহককে তাঁর কার্ড ও পিন নম্বরের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে; কার্ডের ক্রেডিট লিমিট বা ঋণসীমা, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ ও সিভিভিসহ অন্যান্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য অবিশ্বস্ত কাউকে না দেওয়া এবং পিন নম্বর কার্ডের ওপরে কিংবা সহজে পাওয়া যাবে, এমন কোথাও লিখে না রাখা। সরাসরি কেনাকাটার সময় অনেকেই এখন কার্ড সোয়াইপের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করেন। সে ক্ষেত্রে পিন নম্বর দেওয়ার সময় দেখে নিন আশপাশ থেকে কেউ আপনাকে লক্ষ্য করছে কি না।

অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত সাইট ছাড়া বেনামি কোনো জায়গায় কার্ড দিয়ে অর্থ পরিশোধ না করাই ভালো।

অনেক সময় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের নাম নিয়ে নকল ব্যক্তি ফোনকল করে কার্ড কিংবা এমএফএস–সংক্রান্ত তথ্য যেমন কার্ড নম্বর, মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ও কার্ড ভেরিফিকেশন ভ্যালু (সিভিভি) জানতচায়। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানেরই এসব ব্যক্তিগত তথ্য গ্রাহকের কাছে চাওয়ার নিয়ম নেই। তাই কেউ এভাবে তথ্য চাইলে তা দেবেন না।

সতর্কতামূলক বিজ্ঞাপন বা লোভনীয় অফার দিয়ে অনেক সময় সামাজিক মাধ্যম কিংবা খুদে বার্তায় লিংক পাঠায় জালিয়াত চক্র। এসব লিংকে প্রবেশ করলে হ্যাকাররা আপনার ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশাধিকার পেয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে সচেতন থাকুন।

বাড়তি সুরক্ষার জন্য আপনার পিন নম্বরটি মাঝেমধে৵ই পরিবর্তন করবেন। এটিএম কার্ড হারিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হেল্পলাইনে ফোন করে কার্ডটি ব্লক করে দিন। পাশাপাশি কাছের থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করে রাখুন।