বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ব্যাংকের তহবিল খরচ কমপক্ষে ৯ শতাংশ। আমরা ঋণ দিচ্ছি ৭ শতাংশ সুদে। আবার এখন বাড়তি কোনো মাশুলও আদায় করা যাচ্ছে না। ফলে লোকসান ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমরা সরকারের কাছে মূলধন জোগান ও পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছি।’

এদিকে রাকাব পরিচালনায় যেমন অব্যবস্থাপনা রয়েছে, তেমনি বড় অঙ্কের ঋণও খেলাপি হয়ে পড়েছে। এত দিনে ব্যাংকটিতে দক্ষ জনবলও তৈরি হয়নি। ফলে যেনতেনভাবেই চলছে রাকাব।

এ জন্য ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাকাব পরিচালনা মডেল পরিবর্তনের সময় এসেছে। সরকার বারবার মূলধন জোগান না দিয়ে কৃষকের ঋণে সুদ ভর্তুকি দিলেই সমস্যা কেটে যেতে পারে। এতে ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি মজবুত হবে, স্বচ্ছতাও বাড়বে।

রাকাবের অনুমোদিত মূলধন এক হাজার কোটি টাকা ও পরিশোধিত মূলধন ৮২৪ কোটি টাকা। ১৮টি জোনাল কার্যালয়, আড়াই হাজার কর্মকর্তা ও ১ হাজার ২৯৩ জন কর্মচারী এবং ৩৮৩টি শাখা নিয়ে চলছে এই ব্যাংকের কার্যক্রম। মোট শাখার মধ্যে ৩৩৩টি গ্রামে অবস্থিত। গত জুন শেষে রাকাবের দেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। ঋণ নিয়েছেন মোট ৮ লাখ ৭ হাজার ৭২০ গ্রাহক। ব্যাংকটির সংগৃহীত আমানতের পরিমাণ ৫ হাজার ৯১০ কোটি টাকা। আমানতকারীর সংখ্যা ৩৯ লাখ ৭৯ হাজার ২৫৫।

রাকাবের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংকটির শীর্ষ খেলাপি গ্রাহক হচ্ছে নীলফামারীর অঙ্কুর সিড অ্যান্ড হিমাগার। প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাওনা ৪৭ কোটি টাকা। এরপরই রংপুরের পীরগঞ্জের শাহ ইসমাইল গাজী (রহ.) প্রা. লিমিটেডের কাছে ৪২ কোটি টাকা ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের আশরাফ সিড স্টোরের কাছে ৪১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

শীর্ষস্থানীয় অন্যান্য খেলাপি হলো রাজশাহীর দুর্গাপুরের নিগার কোল্ড স্টোরেজ ৩১ কোটি, বগুড়ার আল ফারুক ব্যাগস ২৬ কোটি, শেরপুরের অ্যাগ্রো আর্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ২৫ কোটি, রংপুরের শাহ আমানত স্পেশালাইজড কোল্ড স্টোরেজ ২৪ কোটি, ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজ ২০ কোটি, রংপুরের তারাগঞ্জের জিএসএ অটো ব্রিকস ১৯ কোটি, প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র ১৫ কোটি, শেরপুরের একনিজ ফিল্ড মিলস ১২ কোটি, নওগাঁর মাহমুদ হোসেন কোল্ড স্টোরেজ ৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছে ব্যাংকটির পাওনা ২৭৪ কোটি টাকা।

ব্যাংকটির সমস্যা সম্পর্কে এমডি ইসমাইল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেসব ঋণ খেলাপি হয়ে আছে, তা বেশ পুরোনো। আমরা আদায়ের চেষ্টা করছি। ব্যাংকের সমস্যা হলো, কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে থাকতে চান না। সবাই জেলা ও বিভাগীয় শহরে থাকার চেষ্টা করেন।’

এমডির বক্তব্যের প্রমাণ পাওয়া যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, রাকাবের রাজশাহীর প্রধান কার্যালয় ও ঢাকা অফিসে ৩ বছরের বেশি সময় ধরে চাকরি করছেন ১৩ জন কর্মকর্তা। নিয়মানুযায়ী প্রতি তিন বছর পর তাঁদের বদলি হওয়ার কথা। এ ছাড়া রাকাবের কর্মকর্তাদের ঢাকায় কী কাজ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ নিয়ে ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমি গত মার্চে যোগদানের পর এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন আর কাউকে বেশি সময় শহরের শাখায় রাখা হচ্ছে না।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকটি পরিচালনায় কোনো ধরনের জবাবদিহি নেই। ঋণও দেওয়া হচ্ছে নিয়মকানুন ভেঙে। আবার অর্থ আদায়ে আইনি কাঠামোও বেশ দুর্বল। ব্যাংকটি যে মডেলে চলছে, এটাও টেকসই নয়। এ জন্য যখন-তখন মূলধন জোগান না দিয়ে সুদ ভর্তুকি দিলে ব্যাংকটির জন্য ভালো হয়। পাশাপাশি ব্যাংকটির ওপর তদারকিও বাড়াতে হবে।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন