default-image

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক থেকে ৯ জন মহাব্যবস্থাপককে (জিএম) বিশেষায়িত সরকারি ব্যাংকে বদলি করা হলেও কেউ সেগুলোতে যোগ দিচ্ছেন না। ফলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দেওয়া বদলি আদেশ ১১ মাস ধরে অকার্যকর হয়ে রয়েছে।
এই অবস্থায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ১১ নভেম্বর আবার রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) গত বছরের ডিসেম্বরের প্রজ্ঞাপন কার্যকর করতে বলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকেও চিঠির অনুলিপি দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকের ওপরের দিক থেকে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ হচ্ছে মহাব্যবস্থাপক (জিএম)। অর্থাৎ এমডি ও ডিএমডির পরই জিএমদের অবস্থান। এই পদে নিয়োগ-বদলি করে থাকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। কিন্তু এবারে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের দেওয়া বদলির আদেশ ৯ জিএম ১১ মাসেও মানেননি।
যোগাযোগ করলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ বি এম রুহুল আজাদ গতকাল রোববার প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুনেছি করোনাকালকে অনেকে সামনে আনছেন। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের প্রজ্ঞাপন এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

দেশে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক আছে ছয়টি—সোনালী, অগ্রণী, জনতা, রূপালী, বিডিবিএল ও বেসিক ব্যাংক। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকসহ ১১টি বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বদলি হওয়া জিএমদের মধ্যে জনতা ব্যাংকের তিনজন মাসফিউল বারী, মো. হাবিবুর রহমান গাজী ও মো. মাহবুবুর রহমান এবং রূপালী ব্যাংকের চারজন কাজী আবদুর রহমান, মো. আ. রহিম, মো. শওকত আলী খান ও মো. গোলাম মরতুজা। বাকি দুজনের মধ্যে একজন বিডিবিএলের মো. কামিল বুরহান ফিরদৌস, অন্যজন অগ্রণী ব্যাংকের মনিরুল ইসলাম।

আমাদের দুরবস্থা অনুধাবন করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রেষণে নিয়োগ দিলেও বাস্তবে জিএম আমরা পাইনি। ফলে কাজে সমস্যা হচ্ছে অনেক। আশা করছি শিগগির পেয়ে যাব।
বিকেবির এমডি আলী হোসেন প্রধানিয়া

রাষ্ট্রমালিকানাধীন একটি ব্যাংকের এমডি নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, যাঁরা যাচ্ছেন না, তাঁরা কাজের লোক। অন্তত আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁদের দরকার।
নয়জনের মধ্যে ছয়জনকেই বিকেবিতে বদলি করা হয়েছিল। তাঁদের চারজন রূপালী ব্যাংকের ও দুজন জনতা ব্যাংকের। বাকি তিনজনকে রাকাব, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকে বদলি করা হয়। বিকেবিতে বর্তমানে ১৭টি জিএম পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন সাতজন। ১৯৮৪ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত এই ব্যাংকে নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

বিকেবির এমডি আলী হোসেন প্রধানিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দুরবস্থা অনুধাবন করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রেষণে নিয়োগ দিলেও বাস্তবে জিএম আমরা পাইনি। ফলে কাজে সমস্যা হচ্ছে অনেক। আশা করছি শিগগির পেয়ে যাব।’
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে যে মধু আছে, বিশেষায়িত ব্যাংকে তা কম। ফলে ইনিয়ে-বিনিয়ে তাঁরা রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকে থেকে যেতে চান।’

মন্তব্য পড়ুন 0