বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, আমানতে আগ্রাসী হওয়ায় অগ্রণী ব্যাংকের সুদ আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমানতের বিপরীতে যে সুদ দিতে হয়, ঋণ থেকে সেভাবে আয় হচ্ছে না। ফলে ২০২০ সালে সুদ আয়ে ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ১৯ কোটি টাকা। অথচ ২০১৯ সালে নিট সুদ আয় ছিল ৬৩৫ কোটি টাকা।

এ অবস্থায় অগ্রণী ব্যাংককে দুটি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তা হলো দুটি সরকারি সংস্থা থেকে নেওয়া আমানতের বিপরীতে ব্যাংকের বিদ্যমান সুদহার কার্যকর করা এবং ঘোষিত সুদহারের চেয়ে বেশি সুদে যাতে কোনো শাখা আমানত না নেয়। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের চাহিদা নিরূপণ, উচ্চ সুদে প্রাতিষ্ঠানিক আমানত গ্রহণ, উদ্বৃত্ত তারল্য, ঋণাত্মক সুদ আয়সহ তহবিল অব্যবস্থাপনার বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ব্যাংক যে সুদহার ঘোষণা করবে, তার চেয়ে আমানত ও ঋণে বেশি সুদ কার্যকর করতে পারবে না। গত বছর অগ্রণী ব্যাংক ৬ মাস মেয়াদি আমানতে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও এক বছর মেয়াদি আমানতে ৬ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করে। তবে ওই সময়ে ব্যাংকটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে ৭ থেকে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ সুদে ২৪০ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত নেয়। উচ্চ সুদে আমানত নিলেও গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটিতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ১৮ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তা চান না, তাঁর আনা আমানত অন্য ব্যাংকে চলে যাক। তাই দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমানত আনতে সুদ কিছুটা বাড়িয়ে দিতে হয়েছিল। এখন তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর নিট লোকসান হয়েছে গত বছর ঋণ আদায় কম হওয়ার কারণে। এ ছাড়া আমরা অন্য ব্যাংকের মতো আমানতের সুদ কমিয়ে দিইনি। আমানতকারীদের দিকে তাকিয়ে আমাদের অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’

অগ্রণী ব্যাংকের এমডিকে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘আপনাদের ব্যাংকে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। অতিরিক্ত তহবিলের চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও ঘোষিত সুদহারের চেয়ে বেশি সুদে প্রাতিষ্ঠানিক আমানত গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অতিরিক্ত সুদে আমানত গ্রহণসংক্রান্ত আপনাদের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তহবিল অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাংকের লাভ ও মূলধন পর্যাপ্ততার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ফলে ২০২০ সালে মাত্র ৬৩ কোটি টাকা নিট মুনাফার জন্য ২ হাজার ৫৪ কোটি টাকা নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখা থেকে অব্যাহতি নিতে হয়েছে।

এদিকে অগ্রণী ব্যাংক আমানতের দিক থেকে গত জুনে দেশের তৃতীয় ব্যাংক হিসেবে ওয়ান ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি টাকার ক্লাবে ঢুকেছে। এক লাখ কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা অন্য দুটি ব্যাংক হলো রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক ও বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।

অন্য আমানতেও উচ্চ সুদ

অগ্রণী ব্যাংক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘দুয়ার’–এর মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে আমানত গ্রহণে বেশি অর্থ খরচ করছে। ব্যাংকটির নিয়মিত সুদের সঙ্গে এজেন্টদের ৩ শতাংশ কমিশন দিচ্ছে। এতে এক কোটি টাকার আমানত আনলে এজেন্টরা তিন লাখ টাকা কমিশন পায়। ব্যাংকটির শাখা পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা সাধারণ আমানতকারী এলে তাঁদের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আমানত রাখতে উদ্বুদ্ধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার এজেন্ট ব্যাংকিং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য চালু করলেও কমিশনের জন্য করপোরেট আমানতও যাচ্ছে সেখানে। তবে ঋণসেবা চালু না থাকায় ব্যাংকটির কোনো আয় হচ্ছে না, বরং কমিশনে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

এ নিয়ে ব্যাংকটির এমডি মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং জনপ্রিয় করতে ৩ শতাংশ কমিশন দেওয়া হয়েছিল। এখন করপোরেট আমানতে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সাধারণ গ্রাহকের আমানতেও কমিশন কমানো হয়েছে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ব্যবসা করতে পরীক্ষামূলকভাবে ঋণসেবা চালু করা হয়েছে।

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন