বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্যাংকগুলোর উদ্দেশে চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনাদের শাখায় এই ১১ সাংবাদিকের নামে কোনো ধরনের ব্যাংক হিসাব বর্তমানে বা আগে পরিচালিত হয়ে থাকলে সব হিসাবের যাবতীয় তথ্যের সফট কপি (যাবতীয় কাগজপত্রসহ হিসাবগুলোর তালিকা), হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, প্রোফাইল ফরম, টিপি ও অনুরূপ দলিল ও হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী সোমবারের মধ্যে (১৩ সেপ্টেম্বর) মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

সাংবাদিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সরকার যেকোনো সময়ে যেকোনো কারও ব্যাংকের হিসাব চাইতে পারে। তবে সব নির্বাচিত সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংকের হিসাব চাওয়ার কারণে জনগণের মধ্যে একটা ভুল বার্তা যেতে পারে। তবে এতে আমি খারাপ কিছু মনে করি না, এটা হতেই পারে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন এ হিসাব চাওয়া হয়েছে জানি না। তবে চাওয়া যেহেতু হয়েছে হিসাবের তথ্য সব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। পাশাপাশি এ দেশে অনেক দুর্নীতির কথা শোনা যায় তাদের ব্যাংক হিসাবের তথ্য উপাত্ত চাওয়া হোক।’

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘যারা বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক বলে মানুষ মনে করে তাঁদের খবর না নিয়ে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চাওয়াটা কিছুটা হাস্যকর পর্যায়ের হয়েছে। তার পরও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানাই। তবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তাদের ব্যাংক হিসাবে যা পাওয়া যাবে, তা হুবহু জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। না করলে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের অসততা হবে বলে আমি মনে করি।’

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আব্দুল কাদের গণি চৌধুরী বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও কিছুটা বিস্মিত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার নামটি দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি। দেশের সাংবাদিকেরা দুর্নীতিমুক্ত আছে কি না সেটা দেখার এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত ছিল আগে থেকে তদন্ত করে যাদের ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেন রয়েছে তাদের হিসাব তলব করা। এটা হওয়ার কারণে আত্মীয়স্বজন ও জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা যেতে পারে।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি মোরসালীন নোমানী বলেন, '১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব' সংক্রান্ত একটি সংবাদ গণমাধ্যম থেকে জানতে পারলাম। এর মধ্যে আমার নামটি দেখে খুবই বিস্মিত হয়েছি। এখানে আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমাকে যারা ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন না, তারাও আমার আর্থিক সততা নিয়ে প্রশ্ন করেন --এটা আমি বিশ্বাস করি না। তা ছাড়া স্ত্রী অসুস্থসহ পারিবারিক কারণে ব্যাংকে আমি অনেক টাকা ঋণগ্রস্ত। যেসব নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেই তথ্য সংগ্রহ করার পর, তা যেন জনসম্মুখে (পাবলিকলি) অবশ্যই প্রকাশ করেন, সেই জোর দাবি জানাচ্ছি।

ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান বলেন, ‘সরকারের এই উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই, সাধুবাদ জানাই। আমরা আশা করব সরকার সমাজের অন্য পেশার মানুষদের জন্যও এটা চালু রাখবে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ করছে বলে অনেকে বলছেন, যেটা আমি বিশ্বাস করতে চাই না।’

ব্যাংক থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন