প্রথম পর্বে বিশ্বসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কথা বলেছেন ইয়াসির আজমান। তিনি কীভাবে ক্রিকেট দিয়ে বিশ্বকে জয় করেছেন, সেই জানা-অজানা গল্পই তুলে ধরা হয় আয়োজনে। দ্বিতীয় পর্বে অতিথি ছিলেন জুম শেপারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাওসার আহমেদ। প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরার গল্প বলেছেন কাওসার। তৃতীয় পর্বে ইয়াসির আজমানের অতিথি ছিলেন ড. তাসনিম জারা। যিনি প্রাঞ্জল বাংলায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করোনাবিষয়ক তথ্য ও সচেতনতামূলক ভিডিও-বার্তা প্রচার করেছেন। কোটি কোটি মানুষকে বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক গল্প ও সঠিক তথ্য দিয়ে সুস্থ থাকতে সাহায্য করেছেন। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল উদাহরণ, অন্য তরুণদের জন্য অনুকরণীয়।

আগামীর বাংলাদেশে অতিথি হিসেবে এসেছিলেন ভিন্ন রকম একজন। তিনি শমী হাসান চৌধুরী। শমী বর্তমানে চীনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। ছোটবেলা থেকেই মেধার দ্যুতি ছড়ানো শমী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ‘প্রেসিডেন্টস ভলান্টিয়ার সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন ২০১২ সালে। সম্প্রতি প্রিন্সেস ডায়ানার জন্মদিন উপলক্ষে ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে একটা বিশেষ ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়। সেখানে সারা বিশ্বের মাত্র ছয়জন ইয়ুথ লিডার বা তরুণ নেতার কথা বলা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে শমী হাসান চৌধুরী একজন।

শমী হাসান চৌধুরী বর্তমানে সোয়াস ম্যান স্কলার নামক একটা কর্মসূচির অধীনে চীনের সিনহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সে মাস্টার্স করছেন। সারা বিশ্বের খুব অল্প কিছু শিক্ষার্থীকে এ বৃত্তি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ইয়াসির আজমান জানতে চান, শমী হাসান চৌধুরী ভবিষ্যতে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

উত্তরে শমী বলেন, ‘আমি ভবিষ্যতে নিজেকে নীতিনির্ধারণের জায়গায় দেখতে চাই। আমি যেহেতু নীতি নিয়ে কাজ করব, তাই এই পাঠ্যবিষয় আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর তাই আমি গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সে মাস্টার্স করছি।’

সে ক্ষেত্রে আপনার নিজস্ব নীতি আছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে শমী বলেন, ‘পানি, পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক (ওয়াশ) সচেতনতা তৈরিতে আমি কাজ করছি। এসব বিষয়ের নীতি নিয়ে কাজ করতে চাই। আমার একটা সংগঠন আছে, অ্যাওয়ারনেস থ্রিসিক্সটি। আমি এটার সহপ্রতিষ্ঠাতা। এর মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক নানা রকম কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, আমাদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার অনেক জায়গা আছে। আশা করি, ভবিষ্যতে আমি এসব নিয়ে কাজ করতে পারব।’
অ্যাওয়ারনেস থ্রিসিক্সটির কাজের ধরন সম্পর্কে শমী হাসান চৌধুরী জানান, ‘এখানে মূলত আমরা তরুণদের ক্ষমতায়ন করি।

২৫টির বেশি দেশে আমরা কাজ করছি। তরুণদের শেখাই, কীভাবে তাঁরা মানুষের সেবা করতে পারেন। অনেকেরই এ বিষয়ে আগ্রহ আছে, কিন্তু তাঁরা জানেন না, কোথা থেকে কীভাবে শুরু করবেন। তাঁদের আমরা জাতিসংঘের এসডিজি নিয়ে ধারণা দিই, কীভাবে তাঁরা সমাজের সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন এবং তার সমাধান করবেন। প্রকল্প কীভাবে প্রণয়ন করা হবে এবং কীভাবে সেখানে কাজ করবে। এ ছাড়া তরুণদের যোগাযোগ দক্ষতাসহ সব দক্ষতার উন্নয়ন করার চেষ্টা করি আমি। সারা বিশ্বে অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করলেও বাংলাদেশে পরিচ্ছন্নতার ওপরই বেশি কাজ করছি। বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের সঙ্গেই আমাদের বেশি কাজ হচ্ছে।’

পানি, পয়োনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক সচেতনতা তৈরিতে সক্রিয় কর্মী হিসেবে ডায়ানা পুরস্কার পেয়েছেন শমী হাসান চৌধুরী। কীভাবে পানি বিশুদ্ধ করতে হয়, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব কী, মাসিক সংক্রান্ত কুসংস্কার কোনগুলো, কয়েক বছর ধরে এমন আরও নানা সচেতনতার কথা তিনি পৌঁছে দিচ্ছেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে।

নানা রকম কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আছেন বলে প্রতিনিয়তই শমীকে ছুটতে হয় এদেশ থেকে ওদেশ। কমনওয়েলথ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এশীয় প্রতিনিধি হিসেবে তরুণদের কথাগুলো নীতিনির্ধারকদের টেবিল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া তাঁর কাজ। সেই সূত্রে গত বছর কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষামন্ত্রীদের এক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ফিজিতে।

এর আগে ২০১৮ সালে কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের সঙ্গে পাকিস্তানে গেছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসোর্স নেটওয়ার্ক ২০১৮ সম্মেলন ও কানাডার ভার্জিনিয়ায় লিডারস টুডে গ্লোবাল ইয়ুথ সার্ভিস সামিটে অংশ নিয়েছেন অন্যতম বক্তা হিসেবে। নিজের সংগঠন অ্যাওয়ারনেস থ্রিসিক্সটির গল্প বলতে গেছেন থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে। সব ভ্রমণেই শমীর সঙ্গে থাকে বাংলাদেশের পতাকা। ২০১৪ সালে শমীর মা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এর আগেও সমাজসচেতনতামূলক নানা কার্যক্রমের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। কিন্তু মাকে হারানোর পর পুরোদমে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করতে শুরু করেন। কখনো ময়মনসিংহের পতিতাপল্লি, কখনো হরিজনপল্লি ঘুরে তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। সমাজসেবা কার্যক্রমের পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন নানা পুরস্কার। এসবের মধ্যে শমীর কাছে ‘ডায়ানা অ্যাওয়ার্ড’ অন্যতম, বিশেষ কিছু। এর কারণ বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘সমাজকর্মীদের জন্য প্রিন্সেস ডায়ানা বরাবরই বড় অনুপ্রেরণার নাম। পৃথিবীতে পরিবর্তন আনার জন্য তিনি সব সময় তারুণ্যের শক্তিতে আস্থা রেখেছিলেন। সে জন্যই এই পুরস্কার আমার কাছে আলাদা গুরুত্ব রাখে।’

এ আয়োজন সম্পর্কে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের নানা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে চাই। বলতে চাই, আমাদের নতুন প্রজন্মের দেশে-বিদেশের হরেক সফলতা নিয়ে। আর এসব সাফল্যগাথা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মও যেন এগিয়ে যেতে পারে নিজ নিজে ক্ষেত্রে—সেটাই আমাদের চাওয়া।’

করপোরেট সংবাদ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন