অঞ্চলভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা গড়ে তুলছি

ব্যাংকের বাইরে দেশে যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তার মধ্যে এসএমই খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে ঋণ বিতরণ করে আইডিএলসি ফাইন্যান্স। আর এ খাতের উন্নয়নে কাজ করছে এসএমই ফাউন্ডেশন। বিশ্ব এমএসএমই দিবস সামনে রেখে এ খাত নিয়ে কথা বলেছেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মাসুদুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্র বাণিজ্য প্রতিবেদকশফিকুল ইসলাম

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: বর্তমানে বাংলাদেশের এমএসএমই খাত কী অবস্থায় আছে?

মো. মাসুদুর রহমান: বাংলাদেশে অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান ২৫ থেকে ২৭ শতাংশ। দেশের শিল্প খাতের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ লোক যুক্ত আছেন এই খাতে। আমাদের অনুমান, দেশে এক কোটির ওপরে এমএসএমই উদ্যোক্তা আছেন।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের এসএমই খাতের অবস্থান কেমন?

মো. মাসুদুর রহমান: আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৬০ শতাংশ, আর ভিয়েতনামে এই হার প্রায় ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতিবেশী ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর চেয়ে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। সুতরাং আমাদের এসএমই খাত নিয়ে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: দেশেসব এমএসএমই উদ্যোক্তাদের নিয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষে এককভাবে কাজ করা কি সম্ভব?

মো. মাসুদুর রহমান: বর্তমান কাঠামোতে সব উদ্যোক্তাকে নিয়ে কাজ করা এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষে সম্ভব না। এসএমই ফাউন্ডেশনের বাইরেও সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। আমরা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে মিলে সামগ্রিকভাবে উদ্যোক্তাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই ফাউন্ডেশন এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কী কী কাজ করেছে?

মো. মাসুদুর রহমান: দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা মূল ভূমিকা রাখতে পারেন—এই ধারণা নীতিনির্ধারক ও সচেতন মহলের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। এটা একটা বড় অর্জন। পাশাপাশি বাংলাদেশে আমরাই প্রথম ক্লাস্টারভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার কাজ করেছি। আমরা সারা দেশে প্রায় ১৭৭টা ক্লাস্টার বা অঞ্চল চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে ৫০টির মতো ক্লাস্টারে ইতিমধ্যে কার্যক্রম চলছে, যেখানে প্রায় ছয় লাখ কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। এসব ক্লাস্টার থেকে শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বিদেশেও পণ্য রপ্তানি হচ্ছে।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: এই মুহূর্তে এসএমই খাতের অগ্রযাত্রায় প্রধান প্রতিবন্ধকতা কী?

মো. মাসুদুর রহমান: এসএমই খাতের পাঁচটি প্রধান সমস্যা নিয়ে আমরা কাজ করছি। এগুলো হলো উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া, বাজার সুবিধা, প্রযুক্তি সুবিধা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পণ্য বৈচিত্র্যকরণ। এসব সমস্যা নিয়ে মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি আমরা। দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার বড় অংশ এখনো বৃহৎ শিল্পকে উদ্দেশ্য করে পরিচালিত হয়। তাই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই খাতে বড়
সংস্কার প্রয়োজন।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: পদ্মা সেতু চালুর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উদ্যোক্তারা কীভাবে লাভবান হতে পারবেন?

মো. মাসুদুর রহমান: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাত্র দুই-তিনটি জেলায় বড় শিল্পকারখানা আছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারাও অনেক পিছিয়ে আছেন। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় ওই অঞ্চলে নতুন নতুন ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রশ্ন :

প্রথম আলো: এসএমই দিবসকে ঘিরে আপনাদের কোনো পরিকল্পনা আছে?

মো. মাসুদুর রহমান: ২০২১ সাল থেকে আন্তর্জাতিক এসএমই দিবস পালন করছি আমরা। ২৭ জুন এসএমই দিবসের সকালে শোভাযাত্রা বের করা হবে। সন্ধ্যায় বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান হবে।