অর্থনীতিতে সিপিডিরও অবদান আছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল
ছবি: সংগৃহীত

দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি থিঙ্কট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডিরও (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) অবদান আছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

অর্থমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নিত্যপণ্যের দাম বেশি। এ বিষয়ে সম্প্রতি সিপিডির একটি গবেষণাও প্রকাশিত হয়েছে। সরকারের যথাযথ তদারক ব্যবস্থার অভাবে এমনটি হচ্ছে কি না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা—এসব দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি ভালো। একসময় মুদ্রার মান কমানোর পরামর্শ এসেছিল। আমরা কিন্তু কমাইনি। না কমিয়ে ঠিক করেছি। আর সিপিডিই অর্থনীতি বোঝে আর কেউ বোঝে না, এটা ঠিক না।’

অর্থমন্ত্রী পরমুহূর্তেই অবশ্য বলেন, ‘এটা ঠিক, সিপিডিও অর্থনীতি বোঝে। দেশের অর্থনীতিতে সিপিডিরও অবদান আছে। তবে তারা যা চিন্তা করে সেটাই যে ঠিক, তা আবার ঠিক নয়। বাংলাদেশের যেকোনো এলাকা সম্বন্ধে চাইলে তারা আন্তরিকভাবে কিছু বলতে পারে।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত সোমবার জানায়, দেশে গত মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ, যা তার আগের মাস জানুয়ারিতে ছিল ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। বিবিএসের হিসাবে ২০২০ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

আগামী ২০২২–২৩ অর্থবছরের বাজেট উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) যৌথ পরামর্শক সভার আয়োজন করে। এতে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, আগামী বাজেটে সরকার ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষেরই জয় হবে। এটি উদ্ধৃত করে অর্থমন্ত্রীর কাছে আজ জানতে চাওয়া হয়, ‘হারবেন তাহলে কোন পক্ষ?’
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কেউই হারবেন না। কারণ, জনগণ এখন আগের তুলনায় শিক্ষিত। ক্ষুদ্র, ছোট, বড়—সবাইকে সাহায্য করা হবে আগামী বাজেটে।

এদিকে সিপিডি গত সোমবার সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ঢাকার একজন শ্রমিকের চেয়ে ২৬ গুণ বেশি বেতন পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক প্রতি ডজন ডিম কেনেন ৭ টাকা কম দামে। আবার বাংলাদেশে প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা হলেও বিশ্ববাজারে তা ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।

এ ছাড়া ঢাকা শহরে এখন প্রতি ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটন শহরে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১০৩ টাকা। পণ্য বেশি দামে কিনলেও ঢাকার শ্রমিকের বেতন অনেক কম।

সিপিডির গবেষণায় উঠে আসে, ঢাকার একজন শ্রমিকের মাসিক গড় বেতন যেখানে মাত্র ১৪৯ ডলার বা ১৩ হাজার টাকা, সেখানে ডেটন শহরের শ্রমিকের বেতন ৩ হাজার ৯৫৫ ডলার বা ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা (১ ডলার = ৮৬ টাকা হিসাবে)। অর্থাৎ ঢাকা শহরের একজন শ্রমিকের চেয়ে ২৬ গুণ বেশি বেতন পেয়েও তাঁর চেয়ে ৭ টাকা কম দামে ডিম কিনে খাচ্ছেন ডেটন শহরের শ্রমিক।