২০২১ সালের অর্থনীতির এক সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনায় বিশ্বব্যাংক এসব কথা বলেছে।

বলা হচ্ছে, মহামারি শেষ করার সবচেয়ে কার্যকর ও দ্রুত মাধ্যম হচ্ছে টিকাদান। কিন্তু সেই টিকাদানে দেশে দেশে যোজন যোজন ব্যবধান। উন্নত বিশ্বের ৭৫ শতাংশ মানুষ যেখানে টিকার আওতায় এসেছেন, সেখানে নিম্ন আয়ের দেশের মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ টিকা পেয়েছেন। টিকার বৈষম্য কমাতে বিশ্বব্যাংক ৬৪টি দেশকে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার সাহায্য দিয়েছে। এ ছাড়া কোভ্যাক্সের আওতায় প্রায় ৩০ কোটি টিকা বিভিন্ন দেশকে সহায়তা হিসেবে দেবে। তবে টিকা পেলেই সব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, প্রতিটি দেশের টিকাদানের জন্য যথেষ্ট অবকাঠামো থাকা প্রয়োজন, যা না থাকার কারণে অনেক বেশি পিছিয়ে আছে। তবে বাংলাদেশের টিকাদানের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকার কারণে বেশ দ্রুতই বিপুলসংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় আনা গেছে। অন্তত যে পরিমাণ টিকা পাওয়া গেছে, তা দ্রুতই মানুষকে দেওয়া গেছে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। গত ৮০ বছরে মন্দার পরবর্তী বছর এত দ্রুত হারে প্রবৃদ্ধি আর হয়নি। কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধির চরিত্র সমতামুখী নয়, দেশে দেশে অনেক ভিন্নতা আছে।

মহামারিতে বিশ্বের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আয় কমেছে, কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষের আয় হ্রাসের হার সবচেয়ে বেশি। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, সেটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। তাদের হিসাব বলছে, বিশ্বের ২০ শতাংশ দরিদ্রতম মানুষের আয় কমেছে সবচেয়ে বেশি হারে।

মহামারির কারণে প্রায় সব দেশের স্কুল-কলেজ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। উন্নত দেশগুলো প্রযুক্তির কল্যাণে এ সমস্যা অনেকটা কাটাতে পারলেও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে তা সম্ভব হয়নি। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে দেখা গেছে, শিক্ষণদারিদ্র্য নিম্ন–মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ১০ বছরের কম বয়সী শিশুরা প্রয়োজনীয় পাঠ রপ্ত করায় পিছিয়ে পড়েছে। অর্থাৎ এ বয়সে তাদের যে শেখার কথা ছিল, সেটা তারা শিখতে পারেনি।

এ ছাড়া বাণিজ্য, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি—এসব নিয়েও পর্যালোচনা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন