খোঁজ নিয়ে ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে স্থলবন্দরে শওগাত ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান ২৪ দশমিক ২৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে রোববার দুপুরে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মা-মণি এন্টারপ্রাইজ আমদানি করা পেঁয়াজ ট্রাক থেকে খালাস করে। আমদানি করা পেঁয়াজ থেকে ৬৬ হাজার ৮৫৮ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।

বন্দরের শ্রমিক মোর্শেদ মিয়া, রাসেল মিয়াসহ কয়েকজন জানান, পণ্য আমদানি শুরু হওয়ায় তাঁরা বেশ খুশি। এতে তাঁদের কাজের সুযোগ হয়েছে। সব ধরনের পণ্য যেন এ বন্দর দিয়ে আমদানি করা যায়, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মা-মণি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইলিয়াস মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার আসা পেঁয়াজই এ বন্দর চালু হওয়ার পর প্রথম পেঁয়াজ আমদানি। ভালো দাম পাওয়া গেলে এ বন্দর দিয়ে আরও পেঁয়াজ আমদানি করা সম্ভব হবে জানান তাঁরা।

স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন পণ্য আমদানি শুরু হওয়ায় বন্দরে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ব্যবসায়ীরা যেমন আগ্রহী হয়ে উঠেছেন, তেমনিভাবে বন্দরের শ্রমিকেরাও এখন বেশ খুশি। দেশের অন্যান্য বন্দরের মতো এই বন্দর দিয়ে যদি সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোবারক হোসেন ভূঁইয়া জানান, শুঁটকি, আদা ও গমের পর এ বন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমোদন পেলে বন্দরের রাজস্ব আয় আরও বাড়বে। সেই সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও অনেক লাভবান হবেন।

১৯৯৪ সালে বন্দর হিসেবে কার্যক্রম শুরু করা আখাউড়া স্থলবন্দর মূলত রপ্তানিমুখী। এ বন্দর দিয়ে রপ্তানি হওয়া পাথর, সিমেন্ট, মাছসহ অন্যান্য পণ্য ভারতের ত্রিপুরাসহ সাতটি রাজ্যে সরবরাহ হয়। বন্দর দিয়ে একসময় শুঁটকি আমদানি হলেও সেটি নানা কারণে একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায়।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন