মহামারির পর অন্যান্য দেশের মতো ঘুরে দাঁড়ানোর পথেই ছিল ব্রিটিশ অর্থনীতি। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে অর্থনীতিবিদদের প্রত্যাশার চেয়ে কম। অথচ মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতির হার পৌঁছে গেছে ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ—১৯৯২ সালের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে। এই বাস্তবতায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে ১ শতাংশ।

ডাচ ব্যাংক আইএনজির অর্থনীতিবিদ জেমস স্মিথ দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকুচিত হতে পারে। তাদের পূর্বাভাস, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতি শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। এরপর তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াতে পারে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।

স্মিথ আরও বলেন, ‘সংজ্ঞানুযায়ী বিষয়টি অনেকটা মন্দার মতোই হবে। পরপর দুই প্রান্তিকে সংকোচন না হলেও প্রবৃদ্ধির যে হার দাঁড়াবে, তা নিয়ে উল্লসিত হওয়ার কিছু নেই। জ্বালানির পেছনে মানুষকে বেশি ব্যয় করতে হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় নয়—এমন পণ্যের বিক্রি কমে যাবে। আমরা এটাই দেখব।’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জায়গায় পৌঁছার কারণে মানুষের কেনাকাটা ইতিমধ্যে কমে গেছে। মার্চ মাসে ব্রিটেনের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করবে, সেখানে মানুষের এই কেনাকাটা কমে যাওয়ার চিত্র পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

ব্রিটেনের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ নেইল শিয়ারিং বলেছেন, এ বছর ব্রিটিশ পরিবারের ব্যয় করার মতো অর্থ ১ দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পাবে। এর আগে ১৯৭৭ সালে তা কমেছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ; আর সামগ্রিকভাবে ১৯৫০ সালের পর তা হবে সর্বোচ্চ।

২০০৮ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের পর ব্রিটেনের মানুষের ব্যয় করার মতো আয় হ্রাস পেয়েছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, কোভিড ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে চলতি বছর প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাবে। ফলে সব মিলিয়ে এ বছর অর্থনীতি ভালো যাবে না বলেই উপসংহারে পৌঁছানো যায়।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন