বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত মঙ্গলবার চীনের দিঘি অ্যান্টিফেইক কোম্পানি থেকে আনা ‘এ-ফোর’ কাগজের একটি চালান থেকে ৩ কোটি ১৯ লাখ ৮০ হাজার জাল ব্যান্ডরোল জব্দ করেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। ভ্যাট গোয়েন্দারা চূড়ান্ত হিসাব করে বলেছেন, এই জাল ব্যান্ডরোল ব্যবহৃত হলে সরকার প্রায় ১৩০ কোটি টাকা রাজস্ব হারাত। এরপর এ ধরনের আরও কিছু জালিয়াতির খবর পাওয়া যায়। চীনের একই প্রতিষ্ঠান থেকে আনা সন্দেহজনক আরও ১৩টি চালান চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এর আগে খালাস হয়েছে বলে জানতে পারে কাস্টমস। এর মধ্যে সাতটি বাপ্পু এন্টারপ্রাইজের এবং ছয়টি চালান চট্টগ্রামের জুবিলী রোডের আরাফাত এন্টারপ্রাইজের। এ নিয়ে কাস্টম হাউস বিভাগীয় ও ফৌজদারি মামলা করেছে।

বাংলাদেশে বিড়ি-সিগারেটের প্যাকেটে কাগজের যে ছোট পাতলা আবরণ ফিতার মতো জড়ানো থাকে, সেটাই ব্যান্ডরোল। ব্যান্ডরোল ছাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান দ্য সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ। সেখান থেকে তা সংগ্রহ করে সিগারেট কোম্পানিগুলো। আর বাজারজাতের সময় ব্যান্ডরোলের ব্যবহার অনুযায়ী ভ্যাট বিভাগে শুল্ক–কর পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ সিগারেটের কর আদায় হয় এই ব্যান্ডরোলের মাধ্যমে।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, ভ্যাট ফাঁকির এই ঘটনা তদন্তে অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুনাওয়ার মুরসালীন, সহকারী পরিচালক আলমগীর হুসেন, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাশরেকী ইলিয়া ও আবদুল আউয়াল।

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের নির্দেশে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোন কোন সিগারেট কারখানা এসব ব্যান্ডরোল ব্যবহারের মাধ্যমে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকি দিয়ে থাকতে পারে, তা–ও অনুসন্ধান করা হবে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন