বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশে যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদন হলেও উপযুক্ত প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রচুর আম নষ্ট হয়। যে সময়ে আম সংগ্রহ করা হয়, তখন তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা দুটোই বেশি থাকে।
মোহাম্মদ ইউসুফ, মহাপরিচালক, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে ৩০টি জেলায় আমের চাষ হচ্ছে। তবে ফলন সবচেয়ে বেশি হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও সাতক্ষীরায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, দেশে ২ লাখ ৩৫ হাজার একর জমিতে আমবাগান রয়েছে। সাধারণত প্রতিটি গাছে গড়ে ৭৭ কেজি করে আম উৎপাদিত হয়। ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে মোট ১২ লাখ ২২ হাজার টন আম উৎপাদন করা হয়েছে।

অবশ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে আমের উৎপাদন ২৪ লাখ টনের মতো। আর আমের বাজারের আকার প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার। উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন, মোড়কীকরণ ও পরিবহন মিলিয়ে বাজারের এই আকার হিসাব করা হয়েছে।

জানতে চাইলে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বাংলাদেশে যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদন হলেও উপযুক্ত প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রচুর আম নষ্ট হয়। যে সময়ে আম সংগ্রহ করা হয়, তখন তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা দুটোই বেশি থাকে। এ কারণে উৎপাদিত আমের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ সংগ্রহের সময়ই নষ্ট হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি হলেও উৎপাদনের তুলনায় কম। এসব দিক মাথায় রেখেই ভিএইচটি প্ল্যান্ট করা হচ্ছে। প্ল্যান্টের যন্ত্রপাতি আমদানি করা হবে ইউরোপ থেকে।

এদিকে কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, যেখানে যেখানে প্ল্যান্ট বসানো হবে, সেসব জায়গা ঠিক হয়ে গেছে। যাঁরা আম রপ্তানি করেন, তাঁরা আম সংগ্রহ করে প্ল্যান্টে নিয়ে আসবেন। সেখানে গরম পানিতে আম শোধন করলে আমের সংরক্ষণ ক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি আমের ভেতরে থাকা রোগবালাইও দূর হবে। ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মধ্যে ফরমালিন ও কীটনাশকের মতো ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই। এ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত আম আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে, যা আম রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনে সহায়ক হবে।

জানা গেছে, তিনটি ভিএইচটি প্ল্যান্ট বসাতে খরচ হবে ১০০ কোটি টাকা। পুরো টাকাই সরকারের তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। তবে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও প্ল্যান্ট বসানোর তাগিদ দিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের (কৃষি ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগ) অতিরিক্ত সচিব মতিউর রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আম রপ্তানি বাড়াতে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বসানোর প্রস্তাব আমরা পেয়েছি। আমাদের দেশে এখন বিজ্ঞানভিত্তিক ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে আম পাকানো কম হয়। তাই কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে আম রপ্তানি হয় না। এ কারণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতেরও প্ল্যান্ট নির্মাণে এগিয়ে আসা উচিত।’

বেশ কয়েক বছর ধরেই ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি হচ্ছে। এসব আম নেন প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। উত্তরবঙ্গের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও সাতক্ষীরার চুক্তিভিত্তিক চাষিদের কাছ থেকে আম সংগ্রহের পর মোড়কজাত করে কার্গো বা পণ্য ও যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আম পাঠান রপ্তানিকারকেরা।

বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবল অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফভিএপিইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৩১ টন আম রপ্তানি হয়। পরের বছর সেটি বেড়ে ৩০৮ টনে দাঁড়ায়। গত বছর করোনার কারণে আম রপ্তানি কমে ২৭৮ টনে নামে। আর চলতি বছরে ৯০০ টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন রপ্তানিকারকেরা। ভিএইচটি বসানো গেলে আম রপ্তানি বাড়িয়ে ৪০০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা সম্ভব হবে।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন