বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১ প্রকল্পের বিষয়ে তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘করোনার কারণে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। জনশুমারির সময় আবার পেছাবে। অক্টোবরে শুমারির কাজ হবে না। বিষয়টি আমি সরকারপ্রধানকে (প্রধানমন্ত্রী) জানাব। তাঁর কাছ থেকে নির্দেশনা নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত আমরা সঠিক জনশুমারি করতে পারব। তবে আমরা ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে আর শুমারি করব না। মাঠপর্যায় থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য আনা অনেক ঝামেলা। প্রকল্পে কেনাকাটা ও দরপত্র আহ্বান আরও ঝামেলা। আমার বিশ্বাস এমন একটা সময় আসবে, যখন আর দরপত্র করা লাগবে না। আঙুলে ক্লিক করলেই তথ্য জানা যাবে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে হাজার কোটি টাকা খরচ করে আর জনশুমারি করতে হবে না। জনশুমারির জন্য ১০ বছর অপেক্ষাও করা লাগবে না। একসময় ঘড়ির কাঁটার মতো আমাদের সামনে টিকটিক করবে জনশুমারির তথ্য। এক ক্লিকেই মাথা গুনতির খবর সামনে আসবে।’

ভবিষ্যতে হাজার কোটি টাকা খরচ করে আর জনশুমারি করতে হবে না। জনশুমারির জন্য ১০ বছর অপেক্ষাও করা লাগবে না। একসময় ঘড়ির কাঁটার মতো আমাদের সামনে টিকটিক করবে জনশুমারির তথ্য।
এম এ মান্নান, পরিকল্পনামন্ত্রী।

জনশুমারি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, নিখুঁত না হলেও তার কাছাকাছি শুমারি করা যাবে। জনশুমারি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দেশের নানা পরিকল্পনা নির্ভর করে জনশুমারির ওপর। দেশের কোথায় কী পরিকল্পনা করতে হবে, খাদ্যচাহিদা কত, শিক্ষাব্যবস্থায় কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে হবে, সবই নির্ভর করে জনশুমারির ওপর।’

শুমারি বাস্তবায়নে মিতব্যয়ী হতে হবে জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, কাজ করতে মিতব্যয়ী হতে হবে। যেখানে ১ পয়সা ব্যয় করতে হবে, সেখানে সোয়া পয়সা নয়। আবার যেখানে ১ পয়সা লাগবে, সেখানে আধা পয়সাও খরচ করা যাবে না। কাজ করতে গিয়ে সঠিকভাবে ব্যয় করতে হবে।

শুমারি পেছানোর কারণ

ষষ্ঠ জনশুমারি পিছিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে, গত ২৫ আগস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতে জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের আওতায় ট্যাব কেনার প্রস্তাব ফেরত পাঠানো। প্রস্তাবটি ছিল শুমারি পরিচালনার জন্য ৫৪৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকায় ফেয়ার ইলেকট্রনিকস লিমিটেডের কাছ থেকে ৩ লাখ ৯৫ হাজারটি ট্যাব কেনার। কিন্তু ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি বিবিএসের ওই প্রস্তাব অনুমোদন না করে ফেরত পাঠায়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ট্যাব কেনার বিষয়ে কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। এ জন্য এটি বাতিল করে পুনরায় দরপত্র ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, ট্যাবগুলো কিনতে সুপারিশ করেছিল বিবিএসের মূল্যায়ন কমিটি। দরপত্রে ফেয়ার ইলেকট্রনিকস লিমিটেডের পাশাপাশি ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড অংশগ্রহণ করেছিল। ফেয়ার ইলেকট্রনিকস লিমিটেড ৫৪৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা দর দিলেও ওয়ালটন দিয়েছিল ৪০২ কোটি টাকা। কিন্তু বিবিএস ১৪৬ কোটি টাকা বেশি দরে ফেয়ার ইলেকট্রনিকসকে কাজ দিতে চেয়েছিল। ওই প্রস্তাব ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা ফেরত পাঠানোর কারণে পুনঃদরপত্র ডাকার প্রক্রিয়া করছে বিবিএস। সে কারণে অক্টোবরে জনশুমারির কাজ পিছিয়ে যাচ্ছে।

গতকালের কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ইয়ামিন চৌধুরী। বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) প্রতিনিধি আশা টরকেলসন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মদ।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন