বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সেই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় কোটি টাকা দামের জিপ ও ১১ লাখ টাকায় সাতটি মোটরসাইকেল ক্রয় এবং জিপ-মোটরসাইকেলের জ্বালানি বাবদ আরও ৫০ লাখ টাকা খরচের কথা বলা হয়েছে। এলইডি ডিসপ্লে ও কিয়স্ক (বিজ্ঞাপন দেখানোর যন্ত্র) খাতে দেড় কোটি টাকা খরচের প্রস্তাব করা হয়েছে। ডিএএমের নিজস্ব কার্যালয়ের জন্যও কেনা হবে সিসি ক্যামেরা, এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ও কম্পিউটার সফটওয়্যার। এ ছাড়া কর্মকর্তাদের ভ্রমণসহ টেলিভিশন, ফ্রিজ ও মনিহারি পণ্য ক্রয়, এসব খরচ তো আছেই!

কিন্তু ডিএএমের এত এত খরচের সঙ্গে কৃষকের আলু সংরক্ষণের সরাসরি তেমন সম্পর্ক নেই। যে কারণে প্রকল্পটিতে ‘খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি’ রয়েছে বলে মনে করে পরিকল্পনা কমিশন। তারা অপ্রয়োজনীয় খাতে বেশি অর্থ বরাদ্দ করায় তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

দেশে এমনিতেই সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুরসংখ্যক হিমাগার রয়েছে। নতুন করে আর মডেল ঘর নির্মাণের প্রয়োজন নেই। জনগণের টাকা এভাবে নষ্ট করার মানে হয় না।
মোশাররফ হোসেন, সভাপতি, বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন।

প্রকল্প পর্যালোচনায় দেখা যায়, কৃষকের বসতবাড়ির উঁচু, খোলা, আংশিক ছায়াযুক্ত স্থানে দেশীয় প্রযুক্তিতে বাঁশ, কাঠ, টিন, ইটের গাঁথুনি ও আরসিসি পিলার দিয়ে আলু সংরক্ষণের মডেল ঘর বানিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন দেশে আলু সংরক্ষণে এ ধরনের মডেল ঘর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মডেল ঘর নির্মাণে কতটুকু জমির প্রয়োজন হবে, প্রকল্পে সেটি উল্লেখ করা হয়নি। কৃষকেরা মডেল ঘর নির্মাণের জন্য জমি দেবেন কি না, সেটি নিশ্চিত হতে পারেনি ডিএএম। এ রকম একটি অবাস্তব প্রকল্পে সরকার কেন এত টাকা বিনিয়োগ করবে?

একই মত আলু ব্যবসায়ীদেরও। তাঁরা বলছেন, দেশে এখন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হিমাগার রয়েছে। লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী হিমাগার বিক্রি করে দিচ্ছেন। ডিএএম চাইলে মডেল ঘর নির্মাণ না করে হিমাগার সংস্কার করে আলু সংরক্ষণ করতে পারে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) সভাপতি মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দেশে এমনিতেই সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রচুরসংখ্যক হিমাগার রয়েছে। নতুন করে আর মডেল ঘর নির্মাণের প্রয়োজন নেই। জনগণের টাকা এভাবে নষ্ট করার মানে হয় না। বেসরকারি খাতের অনেক হিমাগার লোকসান দিয়ে এখন হাতবদল হচ্ছে। সরকার চাইলে সেগুলো আলু সংরক্ষণে ব্যবহার করতে পারে। তিনি বলেন, দেশে এখন জরুরি হচ্ছে বিদেশে আলুর রপ্তানি ব্যবস্থা করা। সেটি না করে অন্যদিকে বেশি মনোযোগ ডিএএমের।

অন্যদিকে ডিএএমের কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে এখন কমবেশি ৪০ জাতের আলুর আবাদ হচ্ছে। দেশে ১৯৮০-এর দশকে প্রতিবছর গড়ে যেখানে আলু উৎপাদিত হতো ৯ লাখ টন, সেখানে এখন হচ্ছে ৯৮ লাখ টন। সাড়ে তিন দশকে আলু উৎপাদন বেড়েছে ১১ গুণ। এদিকে মাথাপিছু আলু খাওয়ার পরিমাণও বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। তাঁরা আরও বলেন, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও, কৃষকেরা আলুর ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য বহুমুখীকরণ না হওয়ায় উৎপাদিত আলুর বড় অংশই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকও ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানতে চাইলে ডিএএমের পরিচালক কাজী আবুল কালাম বলেন, প্রচলিত হিমাগারের সঙ্গে প্রস্তাবিত মডেল ঘরের পার্থক্য আছে। প্রস্তাবিত মডেল ঘর তৈরি করা হবে গ্রামের মানুষের জমিতে। এটি গ্রামীণ আধুনিক পদ্ধতি। এ জন্য জমি পেতে সমস্যা হবে না।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিসহ অপ্রয়োজনীয় খাতে খরচ সম্পর্কে আবুল কালাম প্রথম আলোকে বলেন, কৃষক কীভাবে আলু সংরক্ষণ করবেন, তা শেখানো হবে। প্রশিক্ষণে তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় হবে বলে দাবি করেন তিনি।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন