default-image

করোনার ধাক্কা কাটিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে আছে বলে মনে করেন ৭১ শতাংশ ব্যবসায়ী। তাঁদের ১৫ শতাংশের মত হলো, দুর্বল পুনরুদ্ধার হচ্ছে। আর ৪০ শতাংশ ব্যবসায়ী মাঝারি মানের পুনরুদ্ধারের কথা বলেছেন। ১৬ শতাংশ ব্যবসায়ী মতামত, শক্তিশালী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হচ্ছে। ২৯ শতাংশ মনে করেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে নেই।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ায় ব্যবসায়ীরা কতটা আস্থা পাচ্ছেন, তা–ও জরিপে উঠে এসেছে। গত জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যবসায়ীদের আস্থার স্কোর ছিল ৫১ দশমিক ০৬। পরের প্রান্তিকে তা বেড়ে হয়েছিল ৫৫ দশমিক ২৪। চলতি জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে আস্থায় স্কোর হয় ৫৭ দশমিক ৯০। অর্থাৎ দিন যত যাচ্ছে, ব্যবসায়ীদের আস্থা তত বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও এশিয়া ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত এক জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। দেশের ৫০২টি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা টেলিফোনে এ মতামত জরিপে অংশ নেন। জরিপ বলছে, বিভিন্ন খাতের মধ্যে ওষুধ, আর্থিক ও বস্ত্র খাতে তুলনামূলক দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হচ্ছে।

করোনা শুরুর পর ‘কোভিড–১৯ এবং বাংলাদেশে ব্যবসায় আস্থা’ শীর্ষক তিন দফায় প্রান্তিকভিত্তিক জরিপ করল সানেম। গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের ওপর সর্বশেষ জরিপটি হয় গত জানুয়ারি মাসে। গতকাল অনলাইনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান।

৬৯% প্রতিষ্ঠান প্যাকেজের টাকা পায়নি

জরিপের বড় অংশজুড়ে ছিল সরকারঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়ন নিয়ে। সেখানে দেখা গেছে, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬৯ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা পায়নি। আর মাত্র ২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান প্রণোদনার সুবিধা পেয়েছে। আর প্রণোদনার খবরই জানে না ৯ শতাংশ প্রতিষ্ঠান।

প্রণোদনার অর্থ না পাওয়ার পেছনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বেশ কিছু কারণের কথা বলেছেন। এগুলো হলো প্রণোদনা প্যাকেজ অনুদান নয়, ঋণ; খাতভিত্তিক প্রণোদনা পাওয়ার তালিকায় নাম নেই; দীর্ঘ প্রক্রিয়া; জটিল ব্যাংক সেবা; পর্যাপ্ত তথ্য নেই; প্রণোদনার টাকার পরিমাণ কম এবং ঘুষের লেনদেন। আবার যাঁরা প্রণোদনার টাকা পেয়েছেন, তাঁদেরও নানা ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়েছে। যেমন দীর্ঘ প্রক্রিয়া; ব্যাংক সেবায় জটিলতা; কীভাবে আবেদন করতে হবে, তা সহজে বোঝা যায়নি; অর্থের পরিমাণ পর্যাপ্ত নয় এবং ঘুষ চাওয়া হয়েছে।

প্রণোদনার অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রেও বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে আছে। জরিপে অংশ নেওয়া ১৪৪টি বড় প্রতিষ্ঠানের ৪৬ শতাংশ বা প্রায় অর্ধেক প্রতিষ্ঠানই টাকা পেয়েছে। আর ৫৪টি মাঝারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ২৮ শতাংশ প্রণোদনার টাকা পেয়েছে। আর অতিক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র ৩০৪টি প্রতিষ্ঠানের মাত্র ১০ শতাংশ প্রণোদনার অর্থ পেয়েছে। গত অক্টোবর মাসে করা জরিপে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছিলেন, তাঁদের প্রায় ৭২ শতাংশ প্রণোদনার টাকা পাননি। সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আলোচনা

অনুষ্ঠানে সেলিম রায়হান বলেন, কোভিড সংকট এখনো আমরা কাটিয়ে উঠতে পারিনি। দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে আমেরিকা ও ইউরোপে রপ্তানিতে ধাক্কা লেগেছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ খাতে ভোক্তা খরচ বাড়েনি। এসব কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি শ্লথ এবং আস্থা তেমন বাড়ছে না। তাঁর মতে, যেহেতু করোনার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে, তাই আগামী এপ্রিল মাসের জরিপে পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, প্রণোদনার অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক–গ্রাহক সম্পর্ক বেশি গুরুত্ব পাওয়ায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলোই সহজে টাকা পাচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে আছে।

‘আমার ব্যবসা ৭০ শতাংশের মতো পুনরুদ্ধার হয়েছে’—এভাবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কথা জানালেন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও একে খান গ্রুপের পরিচালক আবুল কাশেম খান। তিনি বলেন, এ দেশে ব্যবসা করতে টাকা পাওয়া কঠিন। ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক আছে, এমন উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে কষ্ট হয় না। ব্যাংক ব্যবস্থার বাইরে থাকা উদ্যোক্তারা তো ঋণসহায়তায় পান না।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন