বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ই–টিডিএস ব্যবস্থা চালুর ফলে উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যালয়ে বসেই টাকা জমা দিতে পারছে। সহজে আমরাও জানতে পারছি, কোন প্রতিষ্ঠান কত উৎসে কর জমা দিচ্ছে। পরে ওই করদাতার রিটার্নের সঙ্গেও তা মিলিয়ে দেখা যাবে। এতে পুরো উৎসে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে।
মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, কমিশনার, কর অঞ্চল-৬, এনবিআর

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, ই-টিডিএসের মাধ্যমে গত সাড়ে পাঁচ মাসে মোট ২৫৯ কোটি টাকার উৎসে কর জমা পড়েছে। এ ব্যবস্থায় যুক্ত উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন, নেস্‌লে বাংলাদেশ, সামিট গ্রুপ, ডিএইচএল, এসজিএস লিমিটেড, সিনার্জিস সোর্সিং, প্রাইম ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়।

ই-টিডিএসের আওতায় আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার উৎসে কর জমা দিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসই। সামিট করপোরেশন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ৭০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। এ ছাড়া এসএস পাওয়ার সাড়ে ৩২ কোটি, সুমিতোমো করপোরেশন সাড়ে ১৪ কোটি, নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ১৩ কোটি ৬২ লাখ, প্রাইম ব্যাংক ৪ কোটি ২৯ লাখ ও ডিএইচএল ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা জমা দিয়েছে।

ইটিডিএস চালুর জন্য গত বছর কর অঞ্চল-৬ এর কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একটি দল গঠন করেছিল এনবিআর। জানতে চাইলে মোহাম্মদ জাহিদ হাসান বলেন, ই–টিডিএস ব্যবস্থা চালুর ফলে উৎসে কর কর্তনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যালয়ে বসেই টাকা জমা দিতে পারছে। সহজে আমরাও জানতে পারছি, কোন প্রতিষ্ঠান কত উৎসে কর জমা দিচ্ছে। পরে ওই করদাতার রিটার্নের সঙ্গেও তা মিলিয়ে দেখা যাবে। এতে পুরো উৎসে কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আসবে।

মোহাম্মদ জাহিদ হাসান জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান ই–টিডিএসের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি উৎসে কর জমা করবে, তাদের আগামী বছর থেকে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ই-টিডিএস বাধ্যতামূলক হচ্ছে

বর্তমানে দেশের ২৮ হাজার কোম্পানি প্রতিবছর বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দেয়। এসব কোম্পানিতে লাখ লাখ কর্মী কাজ করেন। এর মধ্যে করযোগ্য কর্মীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে উৎসে কর নিতে হয়। তাই এসব কোম্পানিকে বাধ্যতামূলক ই-টিডিএস ব্যবস্থায় আনার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

আয়কর বিভাগ প্রতিবছর যে পরিমাণ কর আদায় করে, তার মধ্যে ৬২–৬৫ শতাংশই উৎসে কর থেকে আসে। গত ২০২০–২১ অর্থবছরে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা উৎসে কর আদায় হয়েছে। তবে সার্বিক উৎসে করে বেতন খাতের অংশ মাত্র ৫-৬ শতাংশ বা ২-৩ হাজার কোটি টাকা। এ হার ২০ শতাংশে উন্নীত করতে চায় এনবিআর। তাই রিটার্ন দেয় এমন সব কোম্পানিকে ই-টিডিএসে আনা হলে প্রতিবছর ১০-১২ হাজার কোটি টাকা বাড়তি আয়কর আসবে বলে মনে করে সংস্থাটি।

বর্তমানে সারা দেশে প্রায় সাড়ে তিন লাখ প্রতিষ্ঠান উৎসে কর কেটে রেখে পরে তা এনবিআরে জমা দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে দুবার উৎসে কর আদায়সংক্রান্ত প্রতিবেদন আয়কর অফিসে জমা দিতে হয়।

এদিকে পুরো ই-টিডিএস সফটওয়্যারটি চালু করতে কর অঞ্চল-৬ এর পক্ষ থেকে মাত্র লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। এ জন্য এনবিআরকে আলাদা কোনো অর্থ খরচ করতে হয়নি। প্রতিটি কর অঞ্চলের ২-৩ জন করে সব মিলিয়ে এনবিআরের শতাধিক কর্মকর্তা এখন ই-টিডিএস পরিচালনা করছেন।

এনবিআরের ওয়েবসাইটে ঢুকে নির্ধারিত কিছু তথ্য দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইটিডিএস নিবন্ধন নেওয়া যায়। নিবন্ধন নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যালয়ে বসেই এ–সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও উৎসে কর এনবিআরে জমা দিতে পারেন। এদিকে দেশের বহু প্রতিষ্ঠানই উৎসে কর আদায় করেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয় না বলে অভিযোগ আছে। অবশ্য প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণেও অনেক প্রতিষ্ঠান উৎসে করের টাকা জমা দিতে চায় না।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন