বিজ্ঞাপন
বন্দরে যদি জোয়ারের পানি ওঠে, তাহলে বিষয়টি নিয়ে ভাবা দরকার। ভবিষ্যতে ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়টি মাথায় রেখে বন্দর কর্তৃপক্ষকে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে।
মাহবুবুল আলম, সভাপতি, চট্টগ্রাম চেম্বার

জোয়ারের উচ্চতা এক মিটার

গতকাল বুধবার দুপুরে বন্দর ডক অফিসের পাশে অর্থাৎ বন্দরের মূল স্থাপনার সামনে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ারের উচ্চতা হওয়ার কথা ৪ দশমিক ৬৭ মিটার। তবে দুপুর সাড়ে ১২টায় জোয়ারের পানির প্রকৃত উচ্চতা ছিল ৫ দশমিক ৭০ মিটার। অর্থাৎ ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের উচ্চতা এক মিটার বেশি বেড়েছে।

দুপুরের ভরা জোয়ারে বন্দরের কনটেইনার রাখার কয়েকটি চত্বরে পানি উঠে যায়। মহেশখালের পাশের চত্বর, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের একাংশ, জেআর চত্বরসহ অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকায় পানি উঠে গেলে তাতে কনটেইনারের নিচের অংশ সামান্য ডুবে যায়।

চট্টগ্রাম বন্দরের পর্ষদ সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম প্রথম আলোকে বলেন, পূর্ণিমার জোয়ারে পানির উচ্চতা বাড়লেও বন্দরে পানি ওঠে না। তবে এবার ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবের পাশাপাশি একই সময়ে পূর্ণিমার জোয়ার থাকায় বন্দর চত্বরের মহেশখাল এলাকার অংশে পানি ঢুকেছে। কনটেইনারে বাতাস রোধী ব্যবস্থা থাকায় পানি ঢুকে পণ্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা নেই।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, ভাটার সময় কর্ণফুলী নদীর পানির যে উচ্চতা থাকে, সেখান থেকে বন্দরের জেটির উচ্চতা সাড়ে সাত মিটার। অর্থাৎ জোয়ারের পানি সাড়ে সাত মিটারের বেশি হলে বন্দর ডুবে যাবে। গতকাল জোয়ারের সময় জেটির কাছাকাছি পানি উঠে যায়।

৩০ জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে সাগর উত্তাল ছিল। তাতে সাগরে বড় জাহাজের পাশে ছোট জাহাজ রেখে পণ্য স্থানান্তর কার্যক্রম গুটিয়ে আনা হয়। গতকাল কোনো পণ্য খালাস হয়নি। বহির্নোঙরে ৩০টি জাহাজে সোয়া ছয় লাখ টন পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে সিমেন্ট শিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার ও চুনাপাথর, গম, ডাল, চিনি, সার, পাথর, কয়লা ইত্যাদি।

বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের কাজ করে বন্দরের তালিকাভুক্ত শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর। বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম শামসুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় বড় জাহাজের পাশে ছোট জাহাজ রাখা যাচ্ছে না। এ কারণে গতকাল সকাল থেকেই বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজে পণ্য স্থানান্তর বন্ধ রয়েছে।

সাধারণত ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের সময়ও বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ থেকে পণ্য খালাস হয়। আবার কোনো সতর্ক সংকেত না থাকলেও অতিবৃষ্টি ও উত্তাল ঢেউয়ের সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়। কারণ, ঢেউ বেশি হলে বড় জাহাজের সঙ্গে ছোট জাহাজ পাশাপাশি রেখে পণ্য খালাস করা যায় না।

জাহাজ আটকা

এদিকে উত্তাল ঢেউয়ের মুখে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা ভাসানচরের অদূরে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে চরে আটকা পড়েছে পাথরবাহী একটি লাইটার জাহাজ। জাহাজটির ১২ নাবিককে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারের সাহায্যে উদ্ধার করা হয় বলে জাহাজের মাস্টার তোতা মিয়া প্রথম আলোকে জানান।

বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে পাথর নিয়ে ঢাকার দিকে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটির নাম এমভি সান ভেলি-৪। জাহাজটিতে তিনটি হ্যাচে (পণ্য রাখার স্থান) ১ হাজার ৯০০ টনের মতো পাথর রয়েছে। একটি হ্যাচের ঢাকনা ভেঙে ঢেউয়ের পানি ঢোকে। তবে জাহাজটি ডুবেনি বলে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. সেলিম প্রথম আলোকে জানান।

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন