বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমেনা খাতুন বলেন, ‘মনিপুরীপাড়ায় একটি সমিতি থেকে ৪০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। বিধিনিষেধ ঘোষণার পর সেই ঋণের কিস্তি দিতে পারিনি। আয়রোজগার নেই। খেতেই কষ্ট হচ্ছে। কোথায় থেকে কিস্তি দেব। তাই তাদের বলে দিয়েছি, এখন কোনো কিস্তি দিতে পারব না।’

আলাপে আলাপে আমেনা জানান, দোকান খোলা থাকলে দিনে দুই থেকে তিন হাজার টাকার বিক্রি হতো। এখন সেখানে বিক্রি কমে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় নেমে এসেছে। এই টাকায় না দেওয়া যাবে বাড়িভাড়া, না ঋণের কিস্তি। বাসাভাড়া সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। এর বাইরে প্রতিদিনের খরচ চালাব কীভাবে? যারা সরকারি চাকরি করেন, তাদের তো কোনো চিন্তা নেই। মাস শেষে বেতন পান। চোখের সামনে দেখি কত মানুষ নিজেদের গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। তাদের তো কিছু হয় না। আমরা গরিব মানুষ দোকান খুলতে গেলেই পুলিশ বাধা দেয়। ছেলেটা রিকশা নিয়ে বের হলেই মামলার ভয় দেখায়, জরিমানার ভয় দেখায়। এ জন্য ছেলেটাও বাইরে বের হয় না।

সরকারি কোনো সহায়তা পান কি না, জানতে চাইলে আমেনা খাতুন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ভাতা পাইনি। গত বছরও সাধারণ ছুটির সময় সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাইনি। তবে গত বছর সাধারণ ছুটির সময় পরিচিতজন, সচ্ছল ব্যক্তিরা চাল-ডাল-আলুসহ বিভিন্ন সহযোগিতা নিয়ে আসত। এবার তা-ও মিলছে না। এভাবে চললে না খেয়ে মারা যাওয়ার অবস্থা হবে। এসব দুশ্চিন্তায় ঘুমও আসে না।’

সরকার চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়েছে। শুনেছেন কি না জানতে চাইলে আমেনা খাতুন বলেন, ‘লোকজন বলাবলি করছে শুনলাম দোকান আরও এক সপ্তাহ বন্ধ রাখতে হবে। জানি না কী হবে, তবে দোয়া করি সৃষ্টিকর্তা যেন সবাইকে সুস্থ রাখে।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন