বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত অর্থ বছরে দেশের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ। সেবার বিনিয়োগ হয়েছিল জিডিপির ৩১ দশমিক ০২ শতাংশ। আর এবার বলা হচ্ছে, প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে যে এবার বিনিয়োগ অনেকটা বেড়েছে, কিন্তু তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আবার বিনিয়োগ না বাড়লে ধরে নিতে হবে, এই মহামারি উত্তর সময়ে আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এতটা বেড়েছে যে বিনিয়োগ না বাড়লেও আমাদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতায় সেটাও বুদ্ধিগ্রাহ্য মনে হয় না। ফলে প্রবৃদ্ধির এই হার কীভাবে অর্জিত হলো, তার ব্যাখ্যা লাগবে।

সে জন্য আমি প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত ও জিডিপি পরিমাপের পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতি প্রকাশের দাবি করছি।

আর উচ্চ মাথাপিছু আয়ের যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হচ্ছে, তা আগামী দিনের বিচারে দেশের জন্য বুমেরাং হয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন এলডিসি উত্তরণের পর সাশ্রয়ী ঋণ, বাজারসুবিধাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়ার লক্ষ্যে দেনদরবার করে যাচ্ছি। কিন্তু যে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এলডিসি থেকে বের হওয়ার মাত্রার প্রায় দ্বিগুণ, সে দেশে এত বিশেষ সুবিধা লাগবে কেন—এই প্রশ্ন উন্নয়ন–সহযোগীরা তুলছেন। ফলে যাঁরা মনে করছেন, এই ফোলানো-ফাঁপানো পরিসংখ্যান দিয়ে জাতির মঙ্গল হচ্ছে, তাঁরা ভুল করছেন।

সবচেয়ে বড় কথা, প্রবৃদ্ধির হার বা মাথাপিছু আয়ের হিসাব দিয়ে প্রান্তিক মানুষের জীবনমানের পরিস্থিতি বোঝা যায় না। আর খানা আয়–ব্যয় জরিপের ফলাফল ছয় বছরের বেশি সময় ধরে প্রকাশ করা হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দেশের বিভাজিত পর্যায়ে জীবনমানের কী পরিবর্তন হলো, তা বোঝার উপায় নেই। ‍তখন থাকে শুধু বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিশেষ ফেলো, সিপিডি

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন