default-image

সজীবুল ইসলাম। বয়স ৩৫-এর মতো। উবার-পাঠাও অ্যাপসে মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালান। কিন্তু করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে উবার-পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিং বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সজীব। রবি ও সোমবার মোটরসাইকেল নিয়ে বের হননি। কিন্তু পেটের দায়ে গতকাল দুপুরে বাইক নিয়ে বের হয়েছেন।

রাজধানীর এয়ারপোর্ট এলাকার কাওলা বাসস্ট্যান্ডে গতকাল দুপুরে কথা হয় সজীবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সরকার উবার-পাঠাওয়ের মতো রাইড শেয়ারিং বন্ধ করে দেওয়ায় আমাদের মতো “দিন আনি দিনে খায়” মানুষেরা বিপদে পড়েছেন। এক দিন বসে থাকলে সংসার চলে না। তাই আজ ঝুঁকি নিয়েই বের হয়েছি। অ্যাপস ছাড়া চুক্তিভিত্তিক যাত্রী নিচ্ছি।’

সজীবুল ইসলাম থাকেন রাজধানীর অদূরে ৩০০ ফুট রাস্তার শেষ মাথায় রূপগঞ্জের কাঞ্চন এলাকায়। কেন এত দূরে থাকেন, জিজ্ঞাসা করতেই বললেন, বাসাভাড়া অনেক কম। এ ছাড়া সকালবেলা বাসা থেকে বের হলে ঢাকামুখী যাত্রী পাওয়া যায়।

রাস্তার পাশে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কথা হয় সজীবের সঙ্গে। আলাপে আলাপে জানা গেল, মহাখালীর তিতুমীর কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি নিয়েছেন তিনি। এরপর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পান। স্ত্রী-সন্তানসহ ভালোই চলছিল। এ ছাড়া বাড়িতে ছোট দুই ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ দেন। গত বছর সাধারণ ছুটির সময় তাঁর চাকরি যায়।। দুই মাস বেকার ছিলেন। এরপর কিস্তিতে একটি মোটরসাইকেল কিনে উবার-পাঠাওয়ে যাত্রী পরিবহন শুরু করেন।

বিজ্ঞাপন

সজীবুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক মাস ধরেই ভালোই চলছিল। তিনজনের সংসার চালানোর পাশাপাশি গ্রামের বাড়িতেও টাকা পাঠাই। কিন্তু এখন দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি।’

আলাপে আলাপে সজীব বলেন, এখন রাজধানীতে যত উবার-পাঠাওচালক রয়েছেন, তাঁদের প্রায় ৭০ শতাংশই বাধ্য হয়ে এটিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। সেবাটি বন্ধ হওয়ায় তাঁদের অনেকেই বিপাকে পড়েছেন।

আলাপের শেষ দিকে প্রতিবেদনের জন্য একটি ছবি তুলতে চাইলে প্রথমে বাদ সাধেন সজীব। পরে রাজি হন ঠিকই, তবে অনুরোধ করেন ছাপা হওয়া ছবিতে যেন চেহারা বোঝা না যায়। কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘গ্রামের বাড়ির সবাই জানে আমি চাকরি করি।’

অর্থনীতি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন